সাঙ্গা-জয়ার ব্যাটে এগোচ্ছে শ্রীলঙ্কা
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৪, ২২:১১
নিজের বিদায়ী টেস্ট, আর সেখানে দলের হয়ে কোন অবদানই রাখবেন না মাহেলা জয়াবর্ধনে তাই কি হয়! কলম্বো টেস্টের তৃতীয় দিনে পাকিস্তান যখন ম্যাচের ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে, ঠিক তখনই কুমার সাঙ্গাকারার সাথে দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিলেন তিনি। দিন শেষে ৮ উইকেট হাতে রেখে ১৬৫ রানে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা। কুমার সাঙ্গাকারা ও জয়াবর্ধনের ব্যাটিং নৈপুণ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ১৭৭ রান তুলেছে লংকানরা। এর আগে উইকেটরক্ষক সরফরাজ আহমেদের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির উপর ভর করে প্রথম ইনিংসে ৩৩২ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। ফলে প্রথম ইনিংস থেকে ১২ রানের লিড পায় সফরকারীরা।
টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ২ উইকেটে ২৪৪ রান তুলেছিলো পাকিস্তান। তাই তৃতীয় দিনে দুটি বিষয়ের দিকে নজর ছিল সবার। শ্রীলংকার স্কোর টপকে লিড নেয়া হয় কিনা! আর অন্যটি - ৬৬ রানে অপরাজিত থাকা সরফরাজ তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করতে পারেন কিনা!
শেষপর্যন্ত দুটি ক্ষেত্রেই সাফল্যের দেখা পেয়েছে পাকিস্তান। তবে এর পিছনে সবচেয়ে বেশি অবদান ২৭ বছর বয়সী সরফরাজেরই। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তোলার পাশাপাশি দলকে লিডের স্বাদও এনে দেন সরফরাজ। শ্রীলংকার পেসার চানক্য ওয়েলেগেদেরাকে স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে তিন অংকের কোটা স্পর্শ করেন তিনি। এটা ছিল শ্রীলঙ্কার মাটিতে কোন পাকিস্তানি উইকেট রক্ষকের প্রথম সেঞ্চুরি। তবে ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি তিনি; ১২৭ বলের ইনিংসে ৭টি বাউন্ডারি ও ১টি ওভার বাউন্ডারিতে ১০৩ রানে ফিরে যান তিনি। আর পাকিস্তানের ইনিংস গিয়ে থামে ৩৩২ রানে। এই ইনিংসে শ্রীলংকার সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন বাঁ-হাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ। ১২৭ রানে ৯ উইকেট শিকার করে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন হেরাথ। মুত্তিয়া মুরালিধরনের পরে যা লঙ্কানদের পক্ষে ইনিংসে দ্বিতীয় সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। আর এক ইনিংসে নয় কিংবা তার বেশি উইকেট শিকারের অষ্টাদশ নজির।
প্রথম ইনিংসে ১২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুটা ভালোই করেন শ্রীলংকার দু’ওপেনার উপুল থারাঙ্গা ও কুশাল সিলভা। উদ্বোধনী জুটিতে ৫৪ রান যোগ করার পর ৭৯ রানের মধ্যে বিদায় নেন দু’জনই। থারাঙ্গা ৪৫ ও সিলভা ১৭ রান করেন। দু’জনকে প্যাভিলিয়নে পাঠান পাক স্পিনার আব্দুর রেহমান। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর ১২০তম বারের মত জুটি বাধেন সাঙ্গাকারা ও জয়াবর্ধনে। ব্যাট হাতে বরাবরের মতো দারুণ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন দু’জনেই। প্রতিপক্ষ বোলারদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলে এই দুই ব্যাটসম্যান স্কোর বোর্ডে যোগ করেন ৯৮ রান।
দিনের খেলা শেষ হয়ে যাওয়ায় শতরান স্পর্শ করতে না পারলেও দারুণ একটি রেকর্ডের মালিক হয়েছেন তারা। ডেসমন্ড হেইন্স-গর্ডন গ্রিনিজকে পেছনে ফেলে টেস্টে এখন তারাই দ্বিতীয় সফল জুটি। তাদের চেয়ে উপরে আছে কেবল শচীন টেন্ডুলকার-রাহুল দ্রাবিড় জুটি। তবে এই টেস্ট শেষেই জয়াবর্ধনে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে বিদায় জানিয়ে ফেলায়, তাদের রেকর্ডটি হয়তো আরো দীর্ঘতর হতে যাচ্ছে। আজ সাঙ্গাকারা ৫৪ ও জয়াবর্ধনে ৪৯ রানে খেলা শুরু করবেন। ক্রিকইনফো