ওভাল টেস্ট : ভারতের প্রতিরোধ তবুও এগিয়ে যাচ্ছে ইংল্যান্ড

ভারতীয় বোলারদের প্রতিরোধের মধ্যেও ওভাল টেস্টে অবস্থান সংহত করছে ইংল্যান্ড। গতকাল শনিবার দুদেশের মধ্যকার চলতি সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টের দ্বিতীয় দিনে চা বিরতি সময়ে স্বাগতিকরা পাঁচ উইকেটে ২৪৬ রান তুলে ৯৮ রানে এগিয়ে যায়। সিরিজে ১-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া ভারত এর আগে প্রথম দিনে ১৪৮ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল। ইংল্যান্ড কাল লাঞ্চ পরবর্তী সময়ে ৩৮ রানে চার উইকেট খোয়ায়। স্বাগতিকরা দিন শুরু করেছিল আগের সঞ্চয় বিনা উইকেটে তোলা ৬২ রান নিয়ে। ক্রীজে আসেন গতদিনের দুই অপরাজিত ওপেনার আলস্টেয়ার কুক ও স্যাম রবসন। কুক ৭৯ রানে পরাস্ত হন। অপরদিকে রবসন থেমে যান ৩৭ রানে। ওয়ান ডাউন গ্যারি ব্যালান্স ১৩ বাউন্ডারির মারে ৬৪ রান করে বিদায় নেন। এরপর কেউই আর সেভাবে ক্রীজে স্থিত হতে পারেননি। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে বরুন অ্যারন ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন দুটি করে উইকেট তুলে নেন। এর আগের দিন বৃষ্টিভেজা ওভাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ইংল্যান্ড অধিনায়ক কুক ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলে উদ্বোধনী দিনেই ভারতকে গুঁড়িয়ে দেয় স্বাগতিক বোলাররা। দলীয় তিন রানে পেসার জেমস অ্যান্ডারসনের বলে ওপেনার গৌতম গম্ভীর উইকেটরক্ষক জোসেপ বাটলারের হাতে ধরা পড়েন। এর মধ্য দিয়ে অতিথিদের উইকেট পতনের সূচনা ঘটে। ইংলিশ পেসারদের তোপের মুখে এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি খেই হারানো ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। মাত্র ৩৬ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ফেলা ভারত তারপরও মহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাটে ভর করে শেষ পর্যন্ত সংগ্রহটি গড়তে সক্ষম হয়। ১৪০ বলে ৮২ রান করে দলের মান বাঁচান ধোনি। ভারতীয় অধিনায়ক ইনিংসটি খেলতে না পারলে ৬৬ রানেই থেমে যেতো সফরকারীদের ইনিংস। ধোনির পাশাপাশি মুরালি বিজয় (১৮) ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন (১৩) দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। ওল্ড ট্রাফোর্ডের মতো ওভালেও প্রথম ইনিংসে নৈপুণ্য দেখায় ইংল্যান্ডের পেসাররা। দুই তরুণ পেসার ক্রিস জর্ডান ও ক্রিস ওয়াকস যথাক্রমে ৩২ ও ৩০ রানের খরচায় তিনটি করে উইকেট নেন। ভাল বল করেন অপর দুই পেসার জেমস অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রড। প্রথম স্পেলেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ভয় পাইয়ে দেন দুটি করে উইকেট নেয়া এ পেসারদ্বয়। কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৯ ওভার খেলে ৬২ রান দিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করে স্বাগতিকরা। কুক ২৪, স্যাম রবসন ৩৩ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন। এ সময়ে ব্যক্তিগত ১১ রানে ভুবনেশ্বর কুমার কুককে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেললেও তাতে সাড়া দেননি আস্পায়ার পল রেইফেল।