কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধস বৃদ্ধি থামেনি ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস
কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪২
কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস প্রায়ই হচ্ছে। বৃষ্টি হলে পাহাড় ধসের পরিমাণ বেড়ে যায়। চলতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসের কারণে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। এদিকে ধস বাড়লেও কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস কিন্তু থামেনি। বরং কোন কোন এলাকায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস আগের তুলনায় বেড়ে গেছে।
সরেজমিন উপজেলার বরইছড়ি, রাইখালী, শীলছড়ি, কাপ্তাই ঢাকাইয়া কলোনী, চিত্মরম, ওয়াগ্গা, চন্দ্র ঘোনা, জীবতলী ইত্যাদি এলাকায় গিয়ে পাহাড়ে ধস দেখা গেছে। কোন কোন স্থানে পাহাড় বিরাট এলাকা নিয়ে নিচের দিকে ধসে পড়েছে। আবার কোন কোন স্থানে অল্প মাটি ধসে পড়েছে।
কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কারণ সম্পর্কে বলেন, পাহাড় যেভাবে ছিল সেভাবে থাকলে অর্থাত্ প্রাকৃতিক নিয়মে থাকলে পাহাড়ে ধস হবার কথা নয়। কিন্তু মানুষ পাহাড় কেটে ক্ষতবিক্ষত করছে। পাহাড়ের পাদদেশ কেটে ঘরবাড়ি বা আবাদ করার জন্য নিজেদের মত করে তৈরি করায় পাহাড় তার ভারসাম্য ধরে রাখতে পারছে না। যে কারণে বৃষ্টি হলেই পাহাড় ধসে পড়ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, পাহাড়ে নতুন বাজার ঢাকাইয়া কলোনিতে অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি। পাহাড় কেটে এমনভাবে ঘরগুলো তৈরি করা হয়েছে, যে কোনভাবে একটি ঘর ভেঙ্গে পড়লে হুড়মুড় করে শতশত ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়বে। এ ধরনের পরিস্থিতি হলে শতশত মানুষের প্রাণহানি ঘটবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাপ্তাই উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আবদুস সিদ্দিক বলেন, কাপ্তাই উপজেলার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি ঢাকাইয়া কলোনি। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল ঝুঁকিপূর্ণ বসতি পরিদর্শন করে গেছেন। পাহাড় ধসে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি হবার আগেই দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেবার জন্য এলাকার জনগণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি পাহাড়ে নতুন করে যাতে বসতি গড়ে না উঠে সে ব্যাপারেও আইনগত পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।