চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণ উত্তাল সাগর

ভারী বর্ষণ ও সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে গত দুইদিন ধরে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। প্রায় ৩০টি জাহাজ পণ্য খালাসের অপেক্ষায়। পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শত শত লাইটারেজ জাহাজ নদীতে নোঙ্গর করে আছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতরে জেটিতে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে বয়া, বাতি ও বিকন নষ্ট থাকায় বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে নৌরুটে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন নৌরুটও নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০ হাজার টনের বেশি পণ্য পরিবহনে সক্ষম জাহাজগুলো বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাসের জন্য যাতায়াত করতে পারছে। তবে বৃষ্টির কারণে মাল লোড-আনলোড কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় থাকা জাহাজগুলোতে রয়েছে সার, গম, সিমেন্ট ক্লিঙ্কারসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য। মাঝিরঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত পণ্য খালাসের ১৬টি ঘাট রয়েছে। এসব ঘাটে বৃষ্টির কারণে খালাস কার্যক্রম ২ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় এসব ঘাটে পণ্য খালাসে লাইটারেজ জাহাজ নেই। ফলে ঘাট শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। জানা যায়, লাইটারেজ জাহাজে করে চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে নৌপথে নিয়ে যাওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জ, ঘোড়াশাল, নগরবাড়ী, বাঘাবাড়ী, খুলনা, নোয়াপাড়া, বরিশাল, চাঁদপুরে চট্টগ্রাম থেকে জাহাজে করে নৌপথে পণ্য পরিবহন করা হয়। চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ৫০ নটিক্যাল মাইল নৌরুটের তদারকির দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) চট্টগ্রাম অঞ্চল। জাহাজ চলাচলকারীরা জানান, নৌরুটের পথ নির্দেশক বয়া, বাতি, বিকন ও মার্কার নষ্ট হয়ে যাওয়ার জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এগুলো মেরামতের কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। একটি বয়ার মূল্য প্রায় ২৬/২৭ লাখ টাকা। বয়ার কারণে জাহাজ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়। নৌরুটের বেহাল দশা নিয়ে মাস্টার পাইটলটরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ইতিপূর্বে একাধিকবার চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছেন। সূত্র জানায়, নৌরুটের তদারকি করার জন্য বিআইডব্লিউটিএ চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিনটি জাহাজ রয়েছে। কিন্তু একটি জাহাজ ও চট্টগ্রামে নেই। সবগুলো জাহাজ ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে নৌরুটের তদারকি কাজ দীর্ঘদিন যাবত্ বন্ধ রয়েছে। মাস্টার পাইলট কামাল উদ্দিন বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএ রুট তদারকির কাজে নিয়োজিত কোন জাহাজ চট্টগ্রামে নেই। নৌরুটের পথ নির্দেশকগুলোর মধ্যে অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট অবস্থায় রয়েছে। এতে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নৌরুটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার জানানো হয়েছে।’ বিআইডব্লিউটিএ চট্টগ্রামের যুগ্ম পরিচালক আক্কাস আলী ইত্তেফাককে বলেন, আগামী মঙ্গলবার থেকে রুটের বয়া বাতি, বিকন তদারকি কাজ করার জন্য নারায়ণগঞ্জ থেকে ধ্রুবতারা জাহাজ আনা হবে। রুটের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সকল সরঞ্জাম আমাদের স্টোরে মজুদ রয়েছে।’ বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন এদিকে, গতকাল দিনভর বৃষ্টিতে নগরীর জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। গত ক’দিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর নিচু এলাকাগুলোর অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস হয়নি। চান্দগাঁও, বাকলিয়া, চকবাজার, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকার কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিচ তলায় বৃষ্টির পানি ঢোকার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত চব্বিশ ঘন্টায় চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৭৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার। প্রবল মৌসুমী বায়ু প্রবাহের কারণে শ্রাবণের শেষের টানা বর্ষণে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকার রাস্তাঘাট আবারো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিডিএ এভিনিউ, পোর্ট কানেক্টিং রোড, কদমতলী, আরাকান সড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। যাত্রী পরিবহন ছাড়াও পণ্য পরিবহনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। বৃষ্টিপাতের কারণে চকবাজার, বহদ্দারহাট, চাক্তাই, খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন দোকানপাটে পানি ঢোকার খবর পাওয়া গেছে। পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা পাইকারি পণ্য কেনাবেচা ও ডেলিভারি গত ৩/৪ দিন অনেক কমে গেছে।