নূর হোসেনকে আদালতে হাজির না করা নিয়ে রহস্য

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত আদালতে গতকাল শনিবার নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগীকে রহস্যজনক কারণে হাজির করেনি পুলিশ। আগামী ৩০ আগস্ট তাদেরকে হাজির করার দিন ধার্য করেছে আদালত। আদালত সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট থানা থেকে আদালতে নথি না পৌঁছার কারণেই তাদেরকে হাজির করা হয়নি। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, নিহত সাত জনের লাশ নদীতে ভেসে ওঠার পর নূর হোসেনকে খোঁজা হচ্ছিল মরিয়া হয়ে। ঐ সময় তাকে পেলে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা সাজিয়ে হত্যা করা হতো। আর এটা বুঝতে পেরেই নূর হোসেন দ্রুত ভারতে পালিয়ে যান। নূর হোসেনকে দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, নূর হোসেনকে আনা হবে, এ নিয়ে কোন ধরনের সংশয়ের অবকাশ নেই। কী প্রক্রিয়ায় তাকে আনা হবে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। সাত খুন মামলায় তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সাত খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, গত ২৭ এপ্রিল কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজন অপহরণের পর এলাকায় অবস্থান করেন নূর হোসেন। কিন্তু ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে লাশ ভেসে ওঠার পরই সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এ অবস্থায় তারা নিজ উদ্যোগে নূর হোসেনকে ধরতে বেশ কয়েক জায়গায় অভিযান চালান। কারণ নূর হোসেন ধরা পড়লে অনেক অজানা তথ্য বের হবে। আর তাকে পাওয়া গেলে বন্দুক যুদ্ধের নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হতো। কিন্তু নূর হোসেন এতটাই ধূর্ত যে, মোবাইল ফোনে কথা বললেও বার বার স্থান পরিবর্তন করেন। বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই নূর হোসেন দেশ ত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। ১৪ দিন জেল হাজতে থাকার নির্দেশ কলকাতা প্রতিনিধি তারিক হাসান জানান, নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি গতকাল বারাসাত আদালতে বিচারকের এজলাসে শুনানির জন্য তোলা হয়। এ সময় পেশকার আদালতকে জানান, মামলার নথি আসেনি। এতে ক্ষুব্ধ হন বিচারক এডুইন লেপচা। তিনি এর কারণ জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, মামলার নথি বাগুইহাটি থানা থেকে পাঠানো হয়নি। এরপর বিচারক নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগীকে ১৪ দিন জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন এবং আগামী ৩০ আগস্ট ফের তাদেরকে আদালতে তোলার দিন ধার্য করেন। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন দে’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মামলার শুনানি হয়নি। তাই এনিয়ে কিছু বলা সম্ভব না। পুলিশ সূত্র জানায়, ভারতীয় আইনে ৯০ দিনের মধ্যে মামলার চার্জশিট দাখিল করতে হবে। এ সময় শেষ হবে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর। তবে চার্জশিটের কাজ বাকি আছে। বারাসাত আদালতের একজন আইনজীবী জানান, পরপর তিনটি শুনানির দিন মামলার নথি না এলে কিংবা সময় মত চার্জশিট দেওয়া না হলে জেল হেফাজতে থাকা অভিযুক্তরা শর্ত সাপেক্ষে জামিন পেয়ে যেতে পারেন। এমনটাই হয়েছিল ২০০৮ সালে। সেবার একইভাবে কলকাতায় জামিন পেয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী শুভ্রত বাইন। ছাড়া পেয়ে পালিয়েছিল নেপালে। গত ১৪ জুন রাতে কলকাতার কৈখালী এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার হয় নূর হোসেন ও তার দুইসহযোগী খান সুমন এবং ওয়াদুজ্জামান শামীম। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ফরেনার্স আইনে। বর্তমানে তাদের রাখা হয়েছে দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে। আদালতকে ঐ সময় জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলাসহ একাধিক অপরাধে নূর হোসেন অভিযুক্ত। বাংলাদেশ সরকার তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।