ক্যামব্রিয়ান স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

রাজধানীর ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্রী নাঈমা বিনতে নাহিদের লেখা ডায়েরির পাতা জুড়ে রয়েছে রক্তের দাগ। আত্মহত্যার আগে নাঈমা লিখেছিল ঐ ডায়েরি। গত শুক্রবার রাতে গুলশান থানা পুলিশ ক্যামব্রিয়ান কলেজ হোস্টেল কক্ষের সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় নাঈমার লাশ উদ্ধার করে। তার পড়ার টেবিল থেকে পুলিশ ডায়েরি উদ্ধার করে। ডায়েরির বিভিন্ন পৃষ্ঠায় রক্তের দাগ রয়েছে। নাঈমার লাশ উদ্ধার করার সময় তার এক হাতের আঙ্গুল ব্লেড দিয়ে কাটা ছিল। পুলিশ ধারণা করছে, হাতের আঙুলের ফোটা ফোটা রক্ত ডায়েরির পাতায় ব্যবহার করেছে। আত্মহত্যার আগে নাঈমা ডায়েরিতে বাবা-মায়ের কড়া অনুশাসন ও তাদের ক্ষোভের কথা লিখেছে। নাঈমা ডায়েরিতে লিখেছে, ‘আম্মু আব্বু আমাকে মাফ করে দিও। আমি অন্যায় করছি, আমার সাজা হওয়া উচিত। আমি আর কোন কিছু সহ্য করতে পারছি না। খুব অসহায় লাগছে।’ এরপরে লিখেছে, ‘তুমিই তো বলো আমার মত মেয়ের দরকার নেই। আমি এভাবে তোমাদের কষ্ট দিতে চাই না। আমি এই জীবনকে সহ্য করতে পারছি না। আমি ফোনে কথা বলি, কারণ আমি একজনকে ভালোবাসি। আমি খারাপ, আমাকে দিয়ে কিছু হবে না। তাই আমি চলে গেলাম। আমি একটা ছেলেকে ভালোবাসি তবে তোমাদের চেয়ে বেশি না।’ গুলশান থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, নাঈমা মোবাইল ফোনে তার একজন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতো। এতে বাবা-মা তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেয়। সম্প্রতি স্কুলের নির্বাচনী পরীক্ষায় এক বিষয়ে ফেল করে মেয়েটি। পারিবারিক ভুল বুঝাবুঝি আর অভিমানেই আত্মহত্যা করে। ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মেয়েটির লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। ঐ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। নাঈমার পিতার নাম সৈয়দ নাহিদ হাসান। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোরের কেশবপুরে।