উত্তর ইরাকে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ১৫

ইরাকে উত্তরে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হয়েছে ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া’র (আইসিস) ১৫ সদস্য। গতকাল শনিবার দেশটির বৃহত্তম জলাধারের কাছে এই হামলা চালানো হয়। এই জলাধারটি আইসিস জঙ্গি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। একই সঙ্গে সিনজার পর্বতেও বিমান হামলা চালায় মার্কিন সেনারা। সিনজারে ইয়াজিদি সমপ্রদায়ের মধ্যে আইসিস জঙ্গিদের গণহত্যার খবর পাওয়ার পর এই হামলা চালানো হলো। এদিকে মার্কিন ড্রোন হামলার প্রতিশোধ নিতে এই গণহত্যা চালানো হয়েছে। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার। ইরাকের মসুলের বৃহত্তম এই জলাধারের নিকটে বিমান হামলা চালানোর ফলে কুর্দি পেশমার্গা বাহিনীকে সামনের দিকে অগ্রসর হতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই জলাধারটি পুনরায় পেশমার্গা তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে। এর ফলে পানি এবং বিদ্যুতের ওপরও কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় প্রতিষ্ঠা হবে। ইরাকে জঙ্গিরা তাদের ওপর মার্কিন ড্রোন হামলার প্রতিশোধ নিতেই হয়তো ৮০ জন ইয়াজিদিকে হত্যা করেছে বলে বলছেন ইরাকের বিদায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোশিয়ার জেবারি। এর আগে শুক্রবার জঙ্গিরা ইরাকের সংখ্যালঘু ইয়াজিদি সমপ্রদায়ের অন্তত ৮০ জনকে হত্যা করে বলে জানা গেছে। এসময় অনেক নারী ও শিশুকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে জঙ্গিরা এমন খবর শোনা গেলেও জেবারি তা নিশ্চিত করতে পারেননি। জেবারি ওই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে বলেন, ওই হত্যাকান্ড যেখানে ঘটেছে তার আশপাশের গ্রামের সুন্নি মুসলিমরা সেই ইয়াজিদিদের রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু জঙ্গিরা আক্রমণ চালালে তারা কিছুই করতে পারেনি। ওয়াশিংটন বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের পর তারা ড্রোন হামলা চালিয়ে জঙ্গিদের দুটি সাঁজোয়া যান ধ্বংস করে দিয়েছে। এছাড়া, বাগদাদের কাছাকাছি এলকায় সুন্নি অধ্যুষিত আনবার প্রদেশেও আলাদা আলাদাভাবে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। ইরাকে আইসিস’র চলমান সহিংসতা ঠেকাতে শুক্রবার সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এর খসড়া তৈরি করেছে ব্রিটেন। আইসিসকে অর্থ দিয়ে বা অস্ত্র দিয়ে বা লোকবল দিয়ে যারা সহযোগিতা করছে এরকম ছয় ব্যক্তির উপরে এই প্রস্তাবে নানাবিধ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। আইসিস’র সঙ্গে সম্পৃক্ত ছয় ব্যক্তির আন্তর্জাতিক ভ্রমণের উপরে নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের সম্পদ জব্দ করার কথা ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ।