গল্প নয় সত্যি
এক হাতে জীবন জয়!
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৪, ২০:০০
কখনো কখনো কারও মনের জোর যে আর দশটা মানুষের দেহের জোর বা শারিরীক শক্তিকেও বহুগুনে ছাড়িয়ে যেতে পারে সেটাই যেন নতুন করে আরও একবার প্রমাণ করে দেখালেন আমেরিকার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের তরুণী ক্রিস্টাল কান্টু। প্রায় বছর খানেক আগে এক সড়ক দূর্ঘটনায় এক হাত হারালেও স্রেফ মনের জোর আর নতুন করে আত্মস্থ করা কৌশল দিয়েই ভারোত্তলনে ২১০ পাউন্ড ওজন উত্তোলনের মতো বিস্ময় উপহার দিয়েছেন কান্টু। আর তার এই অবিস্মরণীয় অর্জন নানা সময়ে অনুপ্রাণিত করেছে গোটা দুনিয়ার অসংখ্য মানুষকে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, দূর্ঘটনার দিন বন্ধু ড্যানিয়েল কুয়েটের সঙ্গে তার গাড়িতে করে বেরিয়েছিলেন কান্টু। তবে নিজের শহর স্যান অ্যান্টোনিও’র কাছে এসে হঠাত্ করেই গাড়ির একটি চাকা বসে গিয়ে দূর্ঘটনায় পড়েন তারা। এতে বন্ধু ড্যানিয়েল কুয়েট প্রায় অক্ষত থাকলেও একটি হাতে মারাত্মক আঘাত পান কান্টু। হেলিকপ্টারে করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষতক জীবন বাঁচাতে কান্টুর একটি হাত কেটে নেবার সিদ্ধান্ত নেন চিকিত্সকরা। তবে জীবনের এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে থমকে যাননি কান্টু। বরং জিমনেসিয়ামে ভারোত্তলন, জিমন্যাস্টিক ও কার্ডিও ট্রেইনার হিসেবে কাজ করা কান্টু শারিরীক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে তার কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আবিস্কার করেন নিজের মাঝে লুকিয়ে থাকা মনের জোরটাকেও। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে কান্টু পরে জানিয়েছেন যে, ঐ ঘটনার পর এমন একটি দিনও কাটেনি যে দিন তার সেই দূর্ঘটনার কথা একবারও মনে পড়েনি। কিন্তু এর ফলে তার ইচ্ছাশক্তি এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে এমন একটা দূর্ঘটনাকেই এখন উল্টো জীবনের সবচেয়ে ভালো একটি বিষয় বলে ভাবতে শুরু করেছেন তিনি। কেননা, এর মধ্য দিয়ে তিনি জীবনের এতসব আলোকিত দিকের সন্ধান পেয়েছেন যেটি তার সুস্থ-সবল আটপৌরে জীবনেও ছিল অনুপস্থিত। এ ছাড়া কান্টু এটাও বলেছেন যে, দূর্ঘটনার পর বিশ্বের নানা প্রান্তের এত বেশি সংখ্যক মানুষ কান্টুর এই অর্জনে অনুপ্রাণিত হবার কথা জানিয়েছেন যে সেটা কখনো কখনো তার জন্য রীতিমতো অস্বস্তির কারণও হয়ে গিয়েছল। আর টেক্সাসের একটা সাধারণ মেয়ের জন্য এরচেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি থাকতে পারে না বলেও মনে করেন তিনি।