শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৪, ২১:৩৩
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মদিন জন্মাষ্টমী পালিত হয়েছে। সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান এবং আনন্দ উত্সবে উদযাপন করে দিনটি। সকালে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় গীতাযজ্ঞ এবং রাতে শ্রীকৃষ্ণ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
এ উপলক্ষে বিকাল ৪টায় রাজধানীতে বের করা হয় জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রার আগে পলাশীর মোড়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি আয়োজিত জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের সেবায়েত শ্রী প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মুক্তিযুদ্ধের সময় সব সম্প্রদায়ের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। সমতা ও অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে সংবিধান ও দেশ সৃষ্টি করেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু ’৭৫ পরবর্তীকালে একটি কুচক্রি মহল ধর্ম নিয়ে রাজনীতি ও দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র শুরু করে। দেশে সৃষ্টি করে দাঙ্গা-হাঙ্গামা। তিনি বলেন, আবার সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে বিভিন্ন মন্দিরসহ সনাতন ধর্মের বিভিন্ন বয়সের হাজার হাজার শিশু-নারী-পুরুষ অংশ নেন। মিছিলের শুরুতে অংশ নেন বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। শিশু নারী-পুরুষ সাজেন নানা সাজে-কৃষ্ণ, রাধা, শিব, বাসুদেব, কংশ ইত্যাদি। শোভাযাত্রাটি নেচে-গেয়ে আনন্দে ভরিয়ে রাখেন অংশগ্রহণকারীরা। রাস্তার দুই ধারে ছিল উত্সুক জনতার ভিড়। শোভাযাত্রাটি দোয়েল চত্বর-জাতীয় প্রেসক্লাব-পল্টন-গুলিস্তান-নয়াবাজার-রায় সাহেব বাজার হয়ে বাহাদুর শাহ (ভিক্টোরিয়া) পার্কে গিয়ে শেষ হয়। শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর এই শোভাযাত্রার সামনে-পিছনে ছিল পুলিশ, র্যাব ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। রাস্তার মোড়ে মোড়ে এবং দুই ধারেও নিয়োজিত ছিল অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উত্সব উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় পূজা কমিটি গতকাল এক আলোচন সভার আয়োজন করে। বিশ্বদ্যািলয়ের শহীদ রফিক ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. প্রিয়ব্রত পাল। পরে উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে বাহাদুর শাহ পার্ক, বাংলাবাজার হয়ে আবার ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়। পরে সংকীর্তন ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমীর মিছিলে যোগ দেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গতকাল ছিল সরকারি ছুটি। জন্মাষ্টমীতে গণমাধ্যমগুলোতেও ছিল বিশেষ আয়োজন। রাজধানীসহ দেশের মন্দিরে মন্দিরে এবং বাড়িতে নানা আয়োজনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মোত্সব পালন করা হয়েছে। শ্রী কৃষ্ণের এই জন্মোত্সব উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা নগরীসহ সারাদেশে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয় সরকার।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
বাসস জানায়, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জাতীয় অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিদ্যমান ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করার জন্য সকল ধর্মের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। বাংলাদেশের সকল ধর্মের মানুষ স্মরণাতীত কাল থেকে পারস্পরিক সম্প্রীতি, আন্তরিকতা ও ঐক্য সমুন্নত রেখে তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করছেন। তিনি রবিবার বঙ্গভবনে এক সংবর্ধনায় বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য এ সংবর্ধনার আয়োজন করেন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও ব্যক্তিত্ব এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পেশার লোকজন সংবর্ধনায় যোগদান করেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার ও নেপালের রাষ্ট্রদূত সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি ও তার পত্নী রাশিদা খানম বঙ্গভবনে অতিথিদের স্বাগত জানান এবং তাদের সাথে শুভেছা বিনিময় করেন।