কক্সবাজারে পাহাড় কেটে বসতি গড়ার ধুম
আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫৫
কক্সবাজার শহর ও শহরতলীর পাহাড়ি এলাকা দখল করে পাহাড় কেটে বসতি গড়ছে মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গারা। টানা বর্ষণকে কাজে লাগিয়ে গত এক মাসে কক্সবাজার শহর ও শহরতলীর ঝিলংজা মৌজা, ধোয়াপালং বনরেঞ্জ এলাকা এবং উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি গড়ে তুলেছে তারা। এদের দেখাদেখি স্থানীয়রাও পাহাড় কেটে জমি দখল ও বসতি গড়ছে।
সূত্র জানিয়েছে, বর্ষাকাল শুরু হওয়ার পর কক্সবাজারের সরকারি বনভূমির জমি দখল করে ও পাহাড় কেটে বসতি গড়ার হিড়িক পড়েছে। ইতিমধ্যে গত এক মাসে স্থানীয়দের পাশাপাশি রোহিঙ্গারাও কমপক্ষে ৫ শতাধিক নতুন বসতবাড়ি নির্মাণ করেছে। এরমধ্যে গত ৩ দিনের টানা বর্ষণে জেলার বিভিন্নস্থানে ব্যাপকভাবে পাহাড়কাটা হয়েছে এবং সেখানে প্রায় ১শটি নতুন করে ঘর তোলা হয়েছে।
শহরের ঘোনারপাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী জাফর আলম জানান, শহরের ডিসি বাংলোর পেছনে, খাজা মঞ্জিল এলাকা, বাদশাহরঘোনা, ফাতেরঘোনা, জেলা কারাগারের আশেপাশের এলাকা এবং কলাতলী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কাটা চলছে। তবে টানা বর্ষণকে কাজে লাগিয়ে এখন সর্বত্র উত্সবের আকারে পাহাড় কাটা চলছে।
পাহাড় কাটার ঘটনা স্বীকার করে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র সরওয়ার কামাল বলেন, পাহাড় কাটা মাটি এসে পৌরসভার নালা-নর্দমা ভরাট হয়ে গেছে। এতে বিভিন্নস্থানে সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। এই কারণে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
মেয়র জানান, বর্ষাকাল শুরু হওয়ার পর নালা-নর্দমাগুলো কয়েকবার পরিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু পাহাড় কাটা মাটি এসে বার বার ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, শহর ও শহরতলী ছাড়াও পিএমখালী, উখিয়া ও টেকনাফে এখন ব্যাপকহারে পাহাড় কাটা চলছে। মূলত বনবিভাগের পাহাড়ি জমি দখল করার জন্যই পাহাড়গুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। এতে সহযোগিতা করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ফলে প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দেখেও না দেখার ভান করছে।
প্রায় ২ মাস আগে বর্ষাকাল শুরুর সময় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর কিছু লোক দেখানো অভিযান চালালেও বর্তমানে সেই অভিযানও বন্ধ রয়েছে। এই সুযোগে জেলাব্যাপী নতুন করে পাহাড় কাটার হিড়িক পড়েছে।
এবিষয়ে বক্তব্য জানতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার অফিসের সহকারী পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।