কবি শামসুর রাহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্যদিয়ে গতকাল কবি শামসুর রাহমানের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। আধুনিক বাংলা কবিতার প্রাণপুরুষ শামসুর রাহমানের মৃত্যুদিনে রবিবার সকালে বনানী কবরস্থানে কবির সমাধিতে কবির পরিবারের সদস্যগণসহ বিভিন্ন সংগঠন, সংস্থার পক্ষ থেকে এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্যদিয়ে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। সকালে কবি পরিবারের পক্ষ থেকে কবিপুত্র ফাইয়াজ রাহমান, পুত্রবধূ টিয়া রাহমান এবং কবির নাতনী নায়ানা রাহমান পুষ্পার্ঘ্য প্রদান করে শ্রদ্ধা জানান। জাতীয় কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে সভাপতি কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, কবি রবিউল হুসাইন, কবি রবীন্দ্র গোপ, কবি কাজী রোজী এমপি, সাধারণ সম্পাদক আসলাম সানী প্রমুখ সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য প্রদান করে শ্রদ্ধা জানান। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা, শেখ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, শামসুর রাহমান স্মৃতি পরিষদের পক্ষ থেকে কবি ড. মুহম্মদ সামাদ, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি সংসদের পক্ষে ড. শাহাদাত হোসেন নিপু. বিশিষ্ট সাংবাদিক সালেহ চৌধুরীসহ বিভিন্ন সংগঠন সংস্থার পক্ষ থেকে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানান হয়। কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বাসসকে জানান, কবি শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের ‘স্বাধীনতার কবি।’ এ জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং বর্বর পাকিস্তানিদের নানা অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে কবি অসংখ্য কবিতা রচনা করেন- যা মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। কবি রবিউল হুসাইন বলেন, বাংলা সাহিত্য, বাংলাদেশ ও এ মাটি যতকাল থাকবে- ততকাল তার কবিতা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখায় সাহস যোগাবে। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশবরেণ্য কবি শামসুর রাহমানের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি এড. তারানা হালিম এমপি’র সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা ও কবিতা পাঠের আয়োজন করা হয়। আলোচনা ও আবৃত্তিতে অংশগ্রহণ করেন সংগঠনের নেতা অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান, পীযূষ বন্দোপাধ্যায়, খায়রুল আলম সবুজ, ড. ইনামুল হক, কবি হালিম আজাদ, কবি রবীন্দ্র গোপ, অরুণ সরকার রানা, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার প্রমুখ। আলোচনায় বক্তারা বলেছেন কবি শামসুর রাহমান ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের দাবিতে তিনি ছিলেন সোচ্চার। তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি এই সংগঠনটির সাথে কাজ করে গেছেন এবং বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ৭১’র ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে রাজপথে বিএনপি-জামায়াতের পেটোয়া বাহিনীর হাতে তিনি লাঞ্ছিত হয়েছেন। সেলিম আল দীন স্মরণ অনুষ্ঠান তোমার সম্মুখে অনন্ত মুক্তির অনিমেষ ছায়াপথ স্লোগানে দু’দিনব্যাপী সেলিম আল দীন জন্ম স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তারই অংশ হিসাবে আয়োজনের প্রথমদিন রবিবার বিকালে শিল্পকলা একাডেমীর সেমিনার কক্ষে ‘বাংলাদেশের জাতীয় নাট্য আঙ্গিক এবং ঢাকা থিয়েটারের টেম্পেস্ট’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।