শর্ত সাপেক্ষে ৪৮ ঘণ্টা পর লাশ ছাড়ল ইউনাইটেড
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫৮
আরো ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করার শর্তে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া মো. আসলামের পরিবারকে লাশ হস্তান্তর করেছে কর্তৃপক্ষ। শর্ত অনুযায়ী আগামী শনিবার পরিবারের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা শোধ করতে হবে। গতকাল ৪৪ হাজার টাকা দেয়ার পর গুলশান থানা পুলিশের মাধ্যমে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
এ ব্যাপারে নিহতের মেয়ে সাদিয়া ইসলাম বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছয় লাখ টাকা ছাড় দিয়েছে। বাকি টাকা আগামী ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করার শর্ত দিয়েছে। সাদিয়া অভিযোগ করেন, শেষদিকে আমাদের আর বিলের ব্যাপারে কিছু জানানো হতো না। ওষুধের খরচগুলো আমরা নগদ অর্থেই শোধ করে দিতাম। আর রক্তের বিলও দিয়েছি ৩ লাখ টাকা। দুপুরে বাবা মারা যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের হাতে ৩২ লাখ টাকার বিল ধরিয়ে দেয়া হয়। বলা হয়, পুরো অর্থ পরিশোধ না করে এখান থেকে মৃতদেহ নেয়া যাবে না। আমাদের অনেক অনুরোধের পর বাবার মৃতদেহ গোসল করিয়ে কফিনে মুড়িয়ে রাখা হয়।
জানা গেছে, ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আসলামকে গত ৩ জুলাই বারিধারার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়। ডা. কায়সার নাসিরুল্লাহর তত্ত্বাবধানে চিকিত্সাধীন ছিলেন আসলাম। ভর্তির পর কয়েক ধাপে জুলাইয়ের ২৬ তারিখের মধ্যে বিল বাবদ ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করে আসলামের পরিবার। চিকিত্সাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার বিকালে মারা যান আসলাম। এরপর বিল সেকশনে গিয়ে নিহতের স্বজন শুনতে পায় তাদের মোট বিল হয়েছে ৩২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১২ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। বাকী বিল পরিশোধ করে লাশ নিতে হবে। বিল না দেয়া পর্যন্ত লাশ হস্তান্তর করা হবে না বলে জানিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ইউনাইটেড হাসপাতালের এ ধরনের অমানবিক আচরণের কথা নিহতের মেয়ে সাদিয়া ইসলাম গণমাধ্যমকে জানালে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছুটা নমনীয় হয়ে গতকাল বিকালে লাশ হস্তান্তর করে।
লাশ আটকের বিষয়ে ইউনাইটেডের বক্তব্য
রোগীর মৃতদেহ আটকে রেখে বকেয়া বিল আদায়ের বিষয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার পর বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছে ইউনাইটেড হাসপাতাল। তাদের দাবি, স্বজনদের আশ্বাসের ভিত্তিতেই তারা প্রায় দেড় মাস ধরে ঐ ব্যবসায়ীর চিকিত্সা দিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু রোগী মারা যাওয়ার পর বকেয়া পরিশোধে গড়িমসি করা হয়। স্বজনরা পরিকল্পিতভাবেই হাসপাতালের বদনাম করেছে এবং এটি ষড়যন্ত্রের অংশ অভিযোগ করে গতকাল সন্ধ্যায় এ ব্যাপারে বিবৃতি দিয়েছে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।