নদ-নদী ফুঁসছে, পানিবন্দী লাখো মানুষ দুর্ভোগে
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৪, ২৩:১১
ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, সুরমাসহ দেশের অধিকাংশ নদ-নদীতে পানি বাড়ছে। কয়েকটি নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। নদ-নদীর এই পানি বৃদ্ধি আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী দু’দিনের মধ্যে সিরাজগঞ্জ এবং আরিচায় যমুনা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধার অংশবিশেষ এবং জামালপুরের ইসলামপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে। মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকূলে পদ্মা নদীর পানি গতকাল রবিবার সতর্কাবস্থার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আগামী কয়েকদিনে মুন্সীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতিরও অবনতি হবে। এদিকে গতকাল ডালিয়ায় তিস্তা, সুনামগঞ্জে সুরমা এবং জারিয়াজালজাইলে কংস নদীর পানি গতকাল বিপদসীমার যথাক্রমে- ১০, ৩৯ ও ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন গতকাল ইত্তেফাককে জানান, চিলমারিতে ব্র?হ্মপুত্র এবং বাহাদুরাবাদ ও সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি সতর্ক অবস্থা অর্থাত্ বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটারের মধ্যে চলে এসেছে। ফলে আগামী ৪ দিন ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। ব্র?হ্মপুত্র ও গঙ্গা অববাহিকায় ৩টি পয়েন্ট বাদে সবকটি পয়েন্টেই গতকাল পানি বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। বিহারে বন্যা হচ্ছে। এর প্রভাবও বাংলাদেশে পড়তে পারে। তবে নেপাল ও উত্তর ভারতের সাম্প্রতিক বন্যায় গতকাল পর্যন্ত ১০৯ জনের মৃত্যু হলেও এই বন্যা বাংলাদেশে কোন বিরূপ প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আমীর হোসেন জানান, ভারতের উত্তরাঞ্চলের বন্যা হচ্ছে- বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরে দেরাদুনে। এর প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না। নেপালের বন্যার পানি অবশ্য গঙ্গা হয়ে পদ্মা নদী দিয়ে নেমে যাবে। কিন্তু এর ফলেও বাংলাদেশে তেমন কোন বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না।
তবে ভারতের গৌহাটিতে পানি বৃদ্ধির ফলে গঙ্গা অববাহিকায় পানি বাড়বে। ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানি গতকাল স্থিতিশীল থাকায় পদ্মার পানি আগামী ৭২ ঘণ্টায় সামান্য বাড়বে। অন্যদিকে বৃহত্তর সিলেটে বৃষ্টিপাত হ্রাস পাওয়ায় মেঘনা অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির তেমন কোন অবনতি হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
রংপুর প্রতিনিধি জানান, তিস্তা নদীর পানি ব্যারেজ এলাকায় বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। তবে এরই মধ্যে জেলার গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি ওইসব পরিবারে পৌঁছায়নি কোন ত্রাণ সামগ্রী। শুকনো খাবার, জ্বালানি সংকট, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এছাড়া গত ৩ দিনে গঙ্গাচড়া উপজেলার প্রায় ৫০টি পরিবারের ঘরবাড়ি, ক্ষেত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি জমি।
গঙ্গাচড়ার লক্ষিটারী ইউপি চেয়ারম্যান ফয়ছাল হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তিস্তায় পানি বৃদ্ধির ফলে ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার পরিবার। তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান মমিনুর ইসলাম পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য সরকারিভাবে শুকনো খাদ্য ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহের দাবি জানান। মর্নেয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বলেন, তার ইউনিয়নে পর্যাপ্ত বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় পানিবন্দি পরিবারগুলো উঁচু রাস্তা ও বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে পানিবন্দি হয়ে ঘরের ভিতরেই চৌকির উপর অবস্থান নিয়েছে। এদের দুর্দশা লাঘবে জরুরি ত্রাণ সহায়তা দরকার।
এছাড়া পীরগাছা উপজেলার রহমত চর, চর রহমত, ডাবুরের চর, চর নরসিংহসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে প্রায় ২শ’ একর জমির ফসল। কাউনিয়া উপজেলায়ও কয়েকশ’ পরিবার পানিবন্দি হয়ে রয়েছে।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তাসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলের শতাধিক চর ও দ্বীপচর। বসতভিটায় পানি প্রবেশ করায় এসব নদ-নদী অববাহিকার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে ১০ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ও সবজি ক্ষেত।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় সোনাহাট সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ৫৯ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৫১ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ ঘন্টায় বিপদসীমা অতিক্রম করার আশংকা রয়েছে।
এদিকে ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় দুধকুমর নদের অব্যাহত ভাঙ্গনে সোনাহাট সেতুর সংযোগ সড়কের একাংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেইসাথে বন্ধ হয়ে গেছে সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি। ব্রিজের সাথে সংযোগ পুরোপুরি বিছিন্ন হলে ভুরুঙ্গামারী-নাগেশ্বরী উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের কয়েক লক্ষাধিক মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তবে দ্রুতগতিতে বালু ভর্তি বস্তা, ব্লক দিয়ে ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে স্থানীয় জনগণসহ পাউবো কর্তৃপক্ষ।
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, জেলার রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটছে। দু’উপজেলার পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর ডুবে গেছে। পানির চাপে রৌমারী উপজেলার গাছবাড়ি বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। উপজেলার বন্দবেড় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, তার এলাকার আড়াইশ’ পরিবারের ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। একইভাবে দাতভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গনি, কোদালকাটি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও মোহনগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, তাদের এলাকার অসংখ্য ঘরবাড়ি এখন পানির নিচে। প্রতি মুহূর্তেই নতুন নতুন এলাকা ডুবে যাচ্ছে।
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ২০ সহস্রাধিক মানুষ। এর মধ্যে বেলকা ও কাপাশিয়া ইউনিয়ন দুটি পুরোটাই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বন্যাদুর্গত মানুষের সাহায্যার্থে গতকাল জেলা প্রশাসক এহছানে এলাহী ৪০ মেট্রিক টন চালসহ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন। বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে চিড়া, মুড়ি, গুড়, মোমবাতি, দিয়াশলাই, খাবার স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়।
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা জানান, গত ক’দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার নিমাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ। এলাকাগুলোতে গো-খাদ্যসহ বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানির তোড়ে রাস্তা-ঘাট বিধ্বস্ত হয়ে আভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে বহু পুকুরের মাছ, শত শত একর জমির রোপা আমন ও বীজতলা। মালিঝি নদীর পানির তোড়ে পাগলারমুখ-কামারপাড়া সড়কটি হুমকির মুখে পড়েছে। তবে বন্যায় উল্লেখযোগ্য কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) সংবাদদাতা জানান, পাহাড়ি ঢলে নালিতাবাড়ী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষকের শত শত একর জমির সদ্য রোপিত আমন ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া পাহাড়ি ঢলের সাথে আসা বালিতে ভোগাই ও চেল্লাখালি নদী তীরবর্তী এলাকায় ফসলি জমিতে বালির স্তর পড়ায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
পশ্চিম খালভাঙ্গা এলাকার প্রান্তিক কৃষক আলী হোসেন (৫৫) বলেন, ‘আমি ধার দেনা করে এ বছর ৪০ হাজার টাকা দিয়ে দুই একর জমি বন্ধক নিয়েছি। আরও ১০ হাজার টাকা খরচ করে এই জমি লাগিয়েছি। আমি জানতাম না এভাবে হঠাত্ পানি আইয়া পড়বো। আমার সব শেষ হয়ে গেলো।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফ ইকবাল জানান, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ২শ’ হেক্টর জমির আমন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তাছাড়া ভোগাই ও চেল্লাখালি নদী তীরবর্তী আরও ৫ হেক্টর ফসলি জমিতে বালির আস্তরণ পড়েছে। ফলে এসব জমি অনাবাদি হয়ে যাবে।
মহেশখালী (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত ৩ দিন ধরে মহেশখালীতে ভারী ও মাঝারি বৃষ্টিপাতের কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাাবিত হয়েছে। ফলে সদ্য রোপণকৃত আমন ক্ষেত, চিংড়ি ঘের, পানের বরজ ও কাঁচা ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া মাতারবাড়ি-চালিয়াতলি সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে।
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ আড়িয়াল খাঁ, সন্ধ্যা ও সুগন্ধা নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে আমনসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গছে।
টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে উপজেলার তিন হাজার হেক্টর আমন ক্ষেত। ভেসে গেছে অনেক চিংড়ি ঘের ও পুকুরের মাছ। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো আব্দুল লতিফ জানান, হ্নীলা, হোয়াইক্যং, বাহারছড়া ও টেকনাফ সদর ইউনিয়নে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ওই সব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
বাঘা (রাজশাহী) সংবাদদাতা জানান, পদ্মায় পানি বাড়ার সাথে সাথে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এই ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বাঘায় অনেকেই গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। বিলীন হয়েছে কয়েকশ’ বিঘা ফসলি জমি। আবার কেউ কেউ নিজ বসতি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান নিচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে চকরাজাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সরেজমিন উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের চকরাজাপুর, লক্ষ্মীনগর, জোননশী, করারী নওশারা, কারামের মোড় ও ফতেপুর পলাশী গিয়ে দেখা যায়, ভাঙ্গনের ফলে ইতিমধ্যে বিলীন হয়েছে প্রায় ৬শ’ একর ফসলি জমি। চকরাজাপুর অঞ্চলের কালামের মোড় এরাকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা বারেক মোল্লা ও জোতশীর জহুরা খাতুন জানান, গত চার/পাঁচ দিন ধরে একটানা নদী ভাঙ্গনে তাদের বাড়ি-ঘরসহ ওই এলাকার প্রায় ১০ জনের বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। তারা মানবেতর জীবন যাপন করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাদল চন্দ্র হালদার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। যাদের বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে তাদের জন্য অনুদানের ব্যবস্থা করা হবে।