কেন আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন ন্যান্সি
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৪, ২৩:১১
সবার এখন একটিই কৌতূহল। একই প্রশ্ন ঘুরপাক করছে সবার কাছে। কেন ন্যান্সি তার জনপ্রিয়তার এই শীর্ষ অবস্থানে এসেও আত্মহত্যার চেষ্টা করতে গেলেন? দু’দফায় ৬০টি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি। ১৬ আগস্ট দিবাগত রাত সোয়া একটায় তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ধৈর্যশীল স্বভাবের মেয়ে ন্যান্সির আত্মহত্যার চেষ্টার খবরে তোলপাড় চলছে শ্বশুরালয় ব্রহ্মপুত্র পাড়ের ময়মনসিংহ আর পিত্রালয় সোমেশ্বরী পাড়ের নেত্রকোণায়।
এ নিয়ে পুলিশ, পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এখন পর্যন্ত সুস্পষ্টভাবে কিছু বলছে না। বরং পরস্পর বিরোধী কথাবার্তা ও ধারণায় এ নিয়ে রহস্যজট ঘনীভূত হচ্ছে। পুলিশের দাবি, পারিবারিক দ্বন্দ্ব-কলহ এ ঘটনার পেছনে দায়ী। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে কিছু না বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার প্রবণতায় ভক্তদের মাঝে সন্দেহ-সংশয় তীব্র হচ্ছে। জনমনেও চলছে জল্পনা।
স্বামী ময়মনসিংহ পৌরসভার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাজিমুজ্জামান জায়েদের সঙ্গে তার মান-অভিমান চলছিল। ন্যান্সির সহকর্মী কণ্ঠশিল্পী-সুরকাররা বলছেন, স্বামীর অতিমাত্রার সন্দেহ প্রবণতা তাকে এই আত্মহননের পথে হাঁটতে বাধ্য করেছে। যেমন, কণ্ঠশিল্পী শহীদ ন্যান্সির সঙ্গে বেশ কিছু গান গেয়েছেন। আরো কিছু গান করার কথা ছিল তার সঙ্গে। কিছু টাকাও অগ্রিম দিয়েছিলেন ন্যান্সি। কিন্তু ন্যান্সির দ্বিতীয় বিয়ের পর শহীদ ন্যান্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে একরকম গালিগালাজ শুনতে হয় তাকে। এরপরে গান নিয়ে কাজ করবে কি-না বা টাকা ফেরত দেবে কি-না জানতে চাইলে ন্যান্সির স্বামী ফোন ধরে খুব বাজে ব্যবহার করে তার সঙ্গে। শহীদ বলেন, ‘আমি খুবই আতঙ্কিত ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম ন্যান্সির স্বামীর সেদিনের দুর্ব্যবহারে।’
একই রকমভাবে ন্যান্সির এই অবস্থার জন্য স্বামীর অতিমাত্রার সন্দেহ বাতিকটাকেই দায়ী করলেন কণ্ঠশিল্পী আসিফ। এর আগে ন্যান্সির ফেসবুকে একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাস নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে তার পাশে দাঁড়ান কণ্ঠশিল্পী আসিফ। একই সঙ্গে আসিফ তার অডিও কোম্পানি আরবের সঙ্গে কয়েকটি অ্যালবামের চুক্তিও গড়েন। কিন্তু সেই চুক্তি অনুযায়ী ন্যান্সি পরবর্তী অ্যালবামের কাজ করতে পারেননি। মাত্র একটি অ্যালবামে আসিফের সঙ্গে ন্যান্সি গান গাইলেও পরবর্তীতে আসিফের সঙ্গে কাজে বাধা দেন ন্যান্সির স্বামী। একইভাবে আসিফকেও ন্যান্সির স্বামীর কাছ থেকে কটু কথা শুনতে হয়। এরপর চুক্তি গড়ে চুক্তি ভঙ্গ করলেও ন্যান্সির সাংসারিক এই দ্বন্দ্বের কারণে আসিফ ন্যান্সির বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেননি। সাংসারিক জটিলতা থেকে অভিমানের সূত্র ধরেই আত্মঘাতী এ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে নেত্রকোণা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুল আলম জানান, স্বামীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরে ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে পারেন ন্যান্সি। এ বিষয়ে স্বামী নাজিমুজ্জামান জায়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে শুরু থেকেই তিনি বিষয়টি ‘গোপন’ করার চেষ্টা করেন। ঢাকায় নেয়ার সময়ও তিনি বলেন, ‘এখন কিছু বলবো না। সময় হোক, তখন বলবো।’
কিছুদিন আগে ন্যান্সির মা জ্যোত্স্না হক মারা যাওয়ার পর ন্যান্সির বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে দূরত্ব তৈরি হয় বাবা-মেয়ের। এ ছাড়া স্বামী জায়েদ ও শ্বশুরবাড়ি আর্থিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে উঠেছিল ন্যান্সির ওপর। এসব পারিপার্শ্বিক কারণ তার জীবনে জটিলতার সৃষ্টি করেছে বলে অভিমত সূত্রের।
এদিকে জানা যায়, স্বামী নাজিমুজ্জামান জায়েদ ও দুই মেয়ে রোদেলা আর নায়লাকে নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ-ঢাকা যাতায়াতের মধ্যে থাকতেন ন্যান্সি। সম্প্রতি ঢাকার মগবাজারে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি। নেত্রকোণার ছোটগারা এলাকায় তার একটি দোতলা বাসা রয়েছে। এ বাসায় মাঝে-মধ্যে তিনি আসতেন। আবার চলে যেতেন।
১৫ আগস্ট বিকেলে ন্যান্সি নেত্রকোণার ওই বাসায় আসেন। এ সময় তার সঙ্গে স্বামী জায়েদ ছিলেন না। ১৬ আগস্ট দুপুরে প্রথমে ৪০টি ও ঘণ্টাখানেক পর আরো ২০টি ট্যাবলেট খান। মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার কারণে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতাল ও পরে রাতে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) বিভাগীয় প্রধান ডা. আ.ন.ম. ফজলুল হক পাঠান জানান, ন্যান্সির অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছিল। এ কারণেই তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রথম স্বামী সৌরভের সঙ্গে প্রায় ৬ বছরের সংসার জীবনের করুণ বিচ্ছেদের পর ফের দ্বিতীয় সংসার শুরু করেন ন্যান্সি জায়েদের সঙ্গে। গত বছরের চার মার্চ বিয়ে করেন তারা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ দম্পতির ঘর আলো করে আসে নতুন অতিথি নায়লা। আর রোদেলার বাবা সৌরভ।
এদিকে গেল ঈদের আগে বেশক’টি চ্যানেলে লাইভ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন ন্যান্সি। কিন্তু সেই লাইভ অনুষ্ঠানের পারিশ্রমিক নিয়েও দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন তার স্বামী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলের প্রযোজক প্রতিবেদককে জানান, আমরা লাইভের জন্য প্রথমে ন্যান্সির সঙ্গে যোগাযোগ করি। পারিশ্রমিকের বিষয়ও চূড়ান্ত হয় ন্যান্সির সঙ্গে। কিন্তু লাইভের একদিন আগে ন্যান্সির স্বামী প্রডিউসারকে চুক্তির বাইরে চড়ামূল্য হাঁকেন। না হলে সে লাইভে আসবে না বলে হুমকি দেন। এরকম একাধিক ঘটনায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ন্যান্সির গীতিকার, সুরকার ও একাধিক সহশিল্পী বলছেন ন্যান্সির স্বামীর দুর্ব্যবহারের কথা।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ন্যান্সির শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে।