সিরিজ বোমা হামলায় খালেদার মদদ ছিল

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে একযোগে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া শুধু জানতেনই না; ওই হামলায় তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করেছিলেন। খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন, বাংলাদেশে তালেবান ও আল-কায়েদার মতো জঙ্গি গোষ্ঠী গড়ে তুলতে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। গতকাল রবিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ এ সমাবেশের আয়োজন করে। ২০০৫ সালের এই দিনে সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ এই দিনকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী দিবস হিসাবে পালন করে আসছে। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান সিরাজ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, মুকুল চৌধুরী, হাজী মোহাম্মদ সেলিম প্রমুখ। বিএনপিকে আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের সহযোগী সংগঠন হিসাবে আখ্যায়িত করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, আওয়ামী লীগের ঐক্য আরো সুদৃঢ় হলে বিএনপি আর কোনদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে পারবে না। তারা যতই হুমকি-ধামকি দিক না কেন কোন লাভ হবে না। তাদের আন্দোলন শুধু হুমকিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। জঙ্গি গোষ্ঠী বিএনপি যাতে আর কোনদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে না পারে সেজন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিসহ দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। সৈয়দ আশরাফ বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সামনে মূলা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এটা একটা জাহাজের গল্পের মতো। ‘এই লড়িছ না তোরে সারেং বানাব’। কিন্তু ফখরুল সাহেবকে সারেং বানানো হবে না। তাঁর (খালেদা জিয়া) ছেলে দেশে না আসা পর্যন্ত কাউকেই মহাসচিব করা হবে না। তারেক দেশে এলে মা হবে চেয়ারম্যান, ছেলে হবে মহাসচিব। বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে সৈয়দ আশরাফ আরো বলেন, তিনি একজন ভদ্র মানুষ। ফখরুলের জন্য দুঃখ হয়। তাঁর জন্য কষ্ট পাই। তিনি কিসের আশায় এত দৌড়াদৌড়ি করেন? আপনি যতই দৌড়াদৌড়ি করেন না কেন, কোনো লাভ হবে না। খালেদা ও তাঁর ছেলে আপনাকে কিছুই দেবে না। জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জিয়ার উত্থানের ধারাবাহিক ইতিহাস তুলে ধরেছেন অ্যান্থনি মাসকারানহাস তাঁর লিখিত একটি বইয়ে। শনিবার ডেইলি স্টার পত্রিকায় তার অংশবিশেষ প্রকাশ করেছে। সবাই জানে চ্যানেল-৪ এ অ্যান্থনি মাসকারানহাস এক সাক্ষাত্কার দেন, সেখানে রশিদরা স্পষ্ট স্বীকার করেছে জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনের সঙ্গে জড়িত। জিয়ার উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার হত্যা করে আরেকটা রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা। দুর্ভাগ্য খালেদা জিয়ার। সেদিন শেখ হাসিনা ও রেহানা বিলাতে থাকায় জিয়ার ওই অভিলাষ ১০০ ভাগ বাস্তবায়ন হয়নি। মতিয়া চৌধুরী বলেন, ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার মাধ্যমে বিএনপি দেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল। আর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নির্মূল করতে চেয়েছিল। বিএনপির চরিত্র পাশবিক। এদের নির্মূল করতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের প্রসার ঘটিয়েছিল। এবার ক্ষমতার বাইরে থেকে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।