ক্ষুদ্রঋণ জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৪, ২৩:১৩
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, ক্ষুদ্র ঋণের ধারণা এ দেশে খুব বেশি দিনের পুরোনো নয়। বিশ্বের বহুদেশে এটি প্রচলিত। এ দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ক্ষুদ্র ঋণ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এ ঋণের ধারণাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন, অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন ড. মুহম্মদ ইউনূস। জাতীয় উন্নয়নে অর্থনীতির সকল কল্যাণ ধারণাই ব্যবহার করতে হবে।
গতকাল রবিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘বাংলাদেশ সামিট অন সাসটেইনেবল ডেভেল-পমেন্ট ২০১৪’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সম্মেলন চার দিনব্যাপী সামাজিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা অ্যামিনেন্স-এর সহযোগিতায় এবং গ্লোবাল সিটিজেন ফোরাম অন সাসটেইনেবলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সামাজিক বৈষম্য নিরসন ও টেকসই উন্নয়ন অর্জনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করছে। ফলে বাংলাদেশ ক্রমেই বিশ্ব মানবসম্পদ উন্নয়নের সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের মাথাপিছু আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য-আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বৃদ্ধির জন্য আমাদের দুইটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একটি হলো কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অন্যটি মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি। দেশ মানব উন্নয়ন সূচকে এগিয়ে গেলেও একটি জায়গায় তার ছন্দপতন হয়। তা হলো মাথাপিছু আয় কম। আমাদেরকে সেটি বাড়াতে হবে।
আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, সমৃদ্ধশালী দেশ গঠন করতে হলে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ক্ষুদ্র ঋণ সুবিধা আরো বেশি পরিমাণে বাড়াতে হবে। কেননা এটি মানুষের জীবন ধারার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তবে এক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস প্রয়োজন। তা হলো শিক্ষা। উন্নত রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষা অপরিহার্য।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য মানব সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সামাজিক বৈষম্য নিরসন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এ লক্ষ্যে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।
পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সম্মেলনের আহ্বায়ক ড. কাজী খলীকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি আর্জেন্টিনা মাটাভেল পিকিন, এমিনেন্স-এর সিইও ও প্রতিষ্ঠাতা ড. মো. শামীম হায়দার তালুকদার।
দেশের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই
এদিকে বিকালে সম্মেলনের চতুর্থ উন্মুক্ত সেশনে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল বলেছেন, অর্থনীতিতে বাংলাদেশ যে গতিতে এগুচ্ছে তাতে তার উন্নয়ন কেউ ঠেকাতে পারবে না। অর্থবহ উন্নয়ন ও গুণগত মান পরির্বতনের মাধ্যমে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম-আয়ের দেশে পরিণত হবে। তবে এক্ষেত্রে প্রয়োজন সুশিক্ষা। দেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধনে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার একেএমএ হামিদের সভাপতিতে এ সেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সোহরাব হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মীর। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল হক তালুকদার।