বদলি বাণিজ্যে ব্যস্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর!
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৪, ২৩:১৪
স্বাস্থ্য অধিদফতর সারাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কর্ণধার। সেই অধিদফতর যখন বদলি বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকে তার প্রভাব পড়ে স্থানীয় প্রশাসনে। এছাড়া অধিদফতরের একজন পরিচালক দুইটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছে। এসব নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ স্থানীয় প্রশাসন, স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ ও বিএমএর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, এখানে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের পিএ, পিএস ও প্রটোকল অফিসারে তদ্বিরে হয় অধিকাংশ বদলি। প্রতিটি বদলির পিছনে রয়েছে মোটা অংকের উেকাচ। অপরদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের কতিপয় কর্মকর্তা ও একজন আলোচিত ঠিকাদারের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট ঐসকল নিয়োগ-বদলি এবং কেনাকাটা নিয়ন্ত্রন করে। এভাবে তারা কামিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এ অবস্থা চলতে থাকলে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে বলে শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান। বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতামত ছাড়া কোন কর্মচারি কিংবা মেডিক্যাল টেকনোলজিষ্ট এবং চিকিত্সকদের বদলি না করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরে চিঠি দেয়া হলেও তা মানা হচ্ছে না। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওই সিন্ডিকেট জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটের একজন নারী কর্মচারীকে অন্যত্র বদলি করে দেয়। পরে ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঐ কর্মচারির বদলি আদেশ পূনর্বিবেচনা করার জন্য মহাপরিচালককে অনুরোধ জানান। জানা গেছে, রাজধানীর যে কোন সরকারি হাসপাতালে চিকিত্সক, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ও বিভিন্ন কর্মকর্তার পদশূন্য হলে ঐ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লেনদেন করে আসতে হয়। অন্যথায় আসা সম্ভব হয়। ওই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণকারী অন্যতম হোতা এক আলোচিত ঠিকাদার।
বিএনপির আমলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালে ৫৫ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। পরে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) এক নেতাকে ধরে কোন রকমে ঐ যাত্রায় রক্ষা পান। তবে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি স্বাচিপের কর্মী সেজে যান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরে কেনাকাটার নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের হোতা আলোচিত ঠিকাদারের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে উঠে। তিনি তার মাধ্যমে মোটা অংকের উেকাচ দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের পরিচালক পদটি বাগিয়ে নেন। এরপর নতুন নতুন মেডিক্যাল কলেজ অনুমোদন দেয়ার নামে শুরু করেন বাণিজ্য। এর একটি অংশ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তার পকেটে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে এ কর্মকর্তাই সিন্ডিকেটের মূল হোতা। বর্তমান সরকার দ্বিতীয় দফা ক্ষমতায় আসার পর তাকে সরাতে গেলে দুই মন্ত্রীর কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক (হাসপাতাল) সিন্ডিকেটের চাহিদা মেটানো সম্ভব না পেরে এ পদ ছেড়ে দেন। পরে আলোচিত পরিচালককে পরিচালক (হাসপাতাল) অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয় ২০১১ সাল থেকে।
বিএমএ ও স্বাচিপের মহাসচিব অধ্যাপক ডাঃ ইকবাল আর্সলান বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরে এক ব্যক্তিকে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচালক পদে দায়িত্ব দেয়ার পর থেকে তারা প্রতিবাদ করে আসছেন। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আরো চিকিত্সক থাকতে বিষয়টি মেনে নেয়া যায়।
পরিচালক (মেডিক্যাল এডুকেশন) অধ্যাপক ডাঃ এমএ হান্নান বলেন, তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পরিচালক দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তার মূল বিভাগ হলো পরিচালক (মেডিক্যাল এডুকেশন)। আলোচিত ঠিকাদারের সঙ্গে সখ্য সম্পর্ক তিনি বলেন, অফিসিয়াল কাজে ঐ ঠিকাদার আমার সঙ্গে দেখা করতে পারে। অফিসের বাইরে আমার সঙ্গে তার কোন যোগাযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন।
সিন্ডিকেট পরিচালককে মহাপরিচালক করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে দল জানা গেছে। এজন্য মোটা অংকের বাজেট নিয়ে সিন্ডিকেট মাঠে নেমেছে। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বিতর্কিত কাউকে মহাপরিচালক করা হলো স্বাস্থ্য অধিদফতরে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হবে। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে ঐ বিতর্কিত কর্মকর্তা অনুপস্থিত ছিলেন। সরকারে ভিতরে থেকে তারা ষড়যন্ত্র জড়িত বলে ওই কর্মকর্তারা জানান।
অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ দীন মোঃ নুরুল হক বলেন, অধিদফতরের বিভিন্ন বিভাগে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজন। চিকিত্সা সেবার স্বার্থে তা করা হবে বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অধিদফতরে কোন দুর্নীতি ও অনিয়ম পশ্রয় দেয়া হবেনা। চিকিত্সা সেবার বৃহত্তর স্বার্থে সেখানে যে ধরনের পরিবর্তন দরকার তা করা হবে বলে মন্ত্রী জানান।