আরজিনা আক্তারের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কিন্তু...

শিক্ষায় সাফল্য আরজিনা আক্তার পিতা: তিতন মিয়া মাতা: মনোয়ারা বেগম সব শিক্ষার্থীর জীবনই একরকম হয় না। হয়তো কারো বাবা-মা তাদেরকে অনেক বেশি টাকা খরচ করে অনেক জিনিস কিনে দিতে পারেন। আবার অনেক মা-বাবা পারেন না। কেউ মা-বাবা, ভাই-বোনের সাহায্য পায় আবার কেউ পায় না। এরকম পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে আজকের মেধাবীমুখে শিক্ষায় সাফল্যের কথা সাজিয়েছেন মো.আক্তারুজ্জামান আরজিনা আক্তারের জন্ম মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে । ৫ বোন ১ ভাইয়ের মধ্যে সে সবার ছোট। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ- ৫ পেয়েছিলো। দুই বছর পর ধর্মঘর ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকেও জিপিএ- ৫ পেল । তার স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরা জানায় আরজিনা ছোট থেকেই ছিলো খুবই মেধাবী, পড়াশোনায়ও ছিলো মনোযোগী । কোনো ক্লাশ ফাঁকি দিতে দেখিনি। কোনো কিছু না বুঝলে স্যারদের কাছ থেকে পড়া আদায় করার ইচ্ছা ছিলো প্রবল। পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহই শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ভালো ফলাফল করতে সক্ষম হয়েছে। আরজিনা ছোট থেকেই দেখে আসছে তার বাবা তিতন মিয়া রিক্সা চালিয়ে এত বড় সংসার চালানোর পাশাপাশি তাদের দু’জনের পড়াশোনার খরচ চালান। আর এদিকে ছেলেমেয়েদের তথা সংসার আগলে রাখেন মা মনোয়ারা বেগম। একসময় নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিলো। তবুও পিছু হটেনি সে। দৃঢ় সংকল্প, পরিশ্রম, অধ্যবসায় আর মনের জোরে কোনো প্রতিকূলতাই তাকে পিছু হটাতে পারেনি। কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও সব ক্লাশের পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাশ করেছে। মনের গভীরে মেডিক্যালে পড়ার ইচ্ছা থাকলেও তেমন প্রস্তুতি নিতে পারছে না আর্থিক অনটনের জন্যে। তার এখন উচ্চ শিক্ষা নিয়ে যত স্বপ্ন সবই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসিটিতে পড়ুয়া ইমিডিয়েট বড় ভাই জাকির হোসেনের উপর । টিউশনি করে জাকির হোসেন ছোট বোনের পড়াশোনা, সংসার চালানো এবং তার নিজের পড়াশোনার খরচ সবই চালাতে হয়। কদিন আগেও বাবা রিক্সা চালিয়ে সংসার এবং তাদের পড়াশোনার খরচ চালাতেন। এখন তিনিও বয়সের ভারে ন্যুজে পড়েছেন। রিক্সা চালানো বা অন্য কোনো কাজ করতে পারেন না। আরজিনা জানায়, মধ্যে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলো , প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের (সালেহা বেগম কাজল) সহযোগিতায় পড়াশোনা চালু রাখা সম্ভব হয়েছে। তার পড়াশোনা করার প্রবল আগ্রহ এবং নিয়মিত পড়াশোনাই ভালো ফলাফল করতে পেরেছে। আরজিনা জানায় ছাত্রী হিসাবে মেধাবী হওয়ায় স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত বাবা, মা আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষকসহ সবাই তাকে উত্সাহ যুগিয়েছে। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ে অঞ্জলী ম্যাডামের নামটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। আরজিনা ভবিষ্যতের উচ্চ শিক্ষার পথচলা যেন নির্বিঘ্ন হয় সেজন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছে।