বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়া
ব্রিফিংয়ে দুইদেশের মন্ত্রীর আশ্বাস
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৪, ২১:৩৯
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, শুধু বনশিল্প নয় সব খাতেই কর্মী নেবে মালয়েশিয়া। গতকাল প্রবাসীকল্যাণ ভবনে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী রিচার্ড রায়ত অনিক জায়েমের সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ ব্রিফিং-এ মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ায় কাজের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে। আগে শুধু প্লান্টেশন খাতে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়া হতো। এখন থেকে অবকাঠামো, সেবা, ম্যানুফ্যাকচারিংসহ সব ক্ষেত্রেই শ্রমিক নেবে দেশটি।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী রিচার্ড রায়ত অনিক জায়েম এ সময় বলেন, বাংলাদেশ থেকে খুব শিগগিরই কর্মী নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কর্মীদের বায়োডাটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যে কমিটি গঠন করা হবে তারাই এটা নিয়ে কাজ করবে।
উল্লেখ্য, সরকারিভাবে মালয়েশিয়া যেতে নাম নিবন্ধন করেছিলেন সাড়ে ১৪ লাখ মানুষ। এদের মধ্যে প্রথম দফায় যাওয়ার জন্য লটারিতে নির্বাচিত হয়েছিলেন ১১ হাজার ৫৩৮ জন। চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০১২ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়া আবার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার বিষয়ে সমঝোতা করে। তবে এবার সরকারিভাবে (জিটুজি) কর্মী নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দুই দেশ। প্রতিবছর এক লাখ কর্মী নেয়ার কথা থাকলেও দেড় বছরে প্ল্যান্টেশন খাতে মাত্র চার হাজার ৫৩০ জন কর্মী মালয়েশিয়া গেছেন।
এ প্রসঙ্গে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সম্প্রতি মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে শুধু প্লান্টেশন নয়, সব সেক্টরেই বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া হবে। এটি আমাদের জন্য বিরাট সুযোগ। এজন্য খুব শিগগিরই বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে তিনজন ও মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তারা সব কিছু বিবেচনা করে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবেন। এছাড়া জিটুজি পদ্ধতিতে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে কি কি সমস্যা রয়েছে সে বিষয়েও এই কমিটি কাজ করবে। এরপর খুব কম সময়ের মধ্যেই কর্মী পাঠানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বিকাল ৩টায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে মালয়েশিয়ার ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী রিচার্ড রায়ত অনিক জায়েম। আর বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেন, বিএমইটির মহাপরিচালক বেগম শামসন নাহার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক কে, এম আলী আজম, যুগ্ম সচিব নুরুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব আসাদুল ইসলাম, আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সালমা বিনতে কাদির প্রমুখ।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, প্লান্টেশন খাতে মালয়েশিয়ার সাবা সারওয়াক প্রদেশ ১২ হাজার শ্রমিক নেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। খুব শিগগিরই এর কার্যক্রম শুরু হবে। তবে সব ক্ষেত্রেই নিবন্ধিত ১৪ লাখ কর্মী থেকেই পাঠানো হবে। নিবন্ধনের বাইরে কোনও শ্রমিক পাঠানো হবে না।