আঁধার ঘরে চাঁদের আলো
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৪, ২১:৫২
পঞ্চগড়ের দিনমজুরের মেয়ে আফরোজার লেখাপড়া কি অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের দিনমজুর পুত্র আশিকুর এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পেয়েছে গোল্ডেন জিপিএ-৫। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর অদম্য মেধাবী আতিকুর ও জাহাঙ্গীরের দরিদ্রতা জয়। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে তাঁতের কাপড় বুনে লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছে রহিমা। এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।
কমলগঞ্জে মনিপুরী তাঁতকন্যা রহিমার জিপিএ-৫ লাভ
তাঁতে কাপড় বুনে লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছে মনিপুরী বাঙালি মেয়ে রহিমা। কমলগঞ্জ উপজেলার কালারায়বিল গ্রামের মুসলিম মণিপুরী সমপ্রদায়ভুক্ত হতদরিদ্র নসিব আলী ও হালিমা বেগমের চার সন্তানের মধ্যে বড় রহিমা। এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজ থেকে সে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ -৫ পেয়েছে। রাজমিস্ত্রীর যোগালী বাবা অনেক কষ্টে তার সন্তানদের লেখাপড়া চালান। মেয়ের ভালো ফলাফলের খবরে এলাকায় আনন্দের ঢল নামলেও মেধাবী মেয়ের ভবিষ্যত্ আর স্বপ্ন পূরণ নিয়ে আশংকার বাতাস বইছে পরিবারে।
দারিদ্র্যতা জয় করে নাগেশ্বরীর আতিকুর ও জাহাঙ্গীরের সাফল্য
বাবা আবু সিদ্দিক দিনমজুর। মা আয়েশা বেগম ঝি এর কাজ করেন। তাই অধিকাংশ সময় অনাহারে-অর্ধাহারে ৬ ভাই-বোনকে স্কুলে যেতে হয়। তারপরেও পড়ালেখার প্রতি তাদের আগ্রহে ভাটা ফেলতে দেয়নি কখনও। বেরুবাড়ী ইউনিয়নের ছড়ার পাড় গ্রামের আবু সিদ্দিকের তৃতীয় সন্তান আতিকুর রহমান বাবার সাথে দিনমজুরি করে পড়ালেখা অব্যাহত রাখে। এবারে উচ্চ মাধ্যমিকে নাগেশ্বরী ডিগ্রী মহাবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে সে বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটালেও উচ্চ শিক্ষা নিয়ে চিন্তিত তারা।
অন্যদিকে রাজমিস্ত্রির সহযোগী নকুলার পাড় গ্রামের ভূমিহীন গোলাপ উদ্দিন ও জাকিয়ার বড় ছেলে জাহাঙ্গীর আলম হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের টাকায় অসুস্থ বাবার ঔষধ, পথ্য কিনে অবশিষ্ট টাকা মায়ের হাতে তুলে দেন। সেখান থেকে কিছু কিছু জমিয়ে নিজের, ছোট ভাই ও ২ বোনের পড়ালেখার খরচ চলে। সে এবারে দিয়াডাঙ্গা আইডিয়াল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। যদিও জাহাঙ্গীর জানে না অর্থাভাবে তার স্বপ্ন পূরণ হবে কিভাবে।
পঞ্চগড়ে দিনমজুরের মেয়ে আফরোজা পেয়েছে জিপিএ-৫
বাবা দিনমজুর আর মা গৃহিনী। আবাদী কোন জমি নেই। মেয়ের বৃত্তির টাকা দিয়ে ছাগল আর মুরগি পালতেন মা। এ আয় দিয়েই অনেক কষ্টে পড়ালেখা করে এইচএসসিতেও সাফল্য বয়ে এনেছে পঞ্চগড়ের মেয়ে আফরোজা আক্তার। জেলা সদরের দফাদার পাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের মেয়ে আফরোজা পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। অষ্টম শ্রেণিত বৃত্তি ও এসএসসিতেও সে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। কিন্তু ভাল ফলাফল করেও মন ভাল নেই আফরোজার। বাবা-মা’র সাফ কথা মেয়ের খরচ চালানোর মত তাদের আর কোন উপায় নেই।
গোবিন্দগঞ্জের দিনমজুরের পুত্র আশিকুর চূড়ান্ত সাফল্যে পৌঁছতে চায়
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পারগয়ড়া গ্রামের দিনমজুর মোঃ ছোলায়মান আলীর পুত্র আশিকুর রহমান। অন্যের জমিতে দিনমজুর কাজ করে যে আয় হয় তাই দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে। শত কষ্টের মাঝেও ছেলে আশিকুর এবার বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক শাখা থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। আশিকুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে পড়াশুনা করতে চায়। কিন্তু অর্থ তার সাফল্যের পথে বড় অন্তরায়। কোন হূদয়বান এগিয়ে এলে হয়ত সে পৌঁছতে পারে সাফল্যের চূড়ান্ত শিখরে।