কেশবপুরে ইউরিয়া সারের সংকট মত্স্য ঘেরে ব্যবহূত হচ্ছে সার
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৪, ২১:৫৪
কেশবপুরের বিসিআইসি ডিলাররা ভরা আমন চাষের মৌসুমে অধিক মুনাফার আশায় কৃষকদের কাছে সার বিক্রি না করে মাছের ঘের ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করছে। এতে ইউরিয়া সারের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে।
কেশবপুর কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমি। বর্তমান পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে। বর্তমান ধানের মূল্য বেশি হওয়ার কারণে কৃষকরা বেশি করে ধান আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে ধান চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে কৃষি অধিদপ্তর দাবি করেছে।
এক্ষেত্রে আমন চাষের অনুকূলে সারের চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৮৭ মেঃ টন। এর অনুকূলে গত ৩ মাসে কেশবপুরে ১৩ জন বিসিআইসি ডিলারের মাধ্যমে বরাদ্দ পেয়েছে ২ হাজার ৫৮ মেঃ টন সার। ডিলারদের আমদানিকৃত সার উপজেলার ৯০ জন সাব ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেয়ার কথা। কিন্তু ঘের ব্যবসায়ীদের প্রচুর ইউরিয়া সারের চাহিদার কারণে বিসিআইসি ডিলাররা তাদের উত্তোলিত সার সরাসরি ঘের মালিকদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছে। আমন ধান ও মত্স্য চাষের যৌথ চাহিদার কারণে কেশবপুরে ইউরিয়া সারের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে কেশবপুর উপজেলা মত্স্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুরে ছোট বড় মিলিয়ে ৩ হাজার ৬শ’ ৩১টি ঘেরে মত্স্য চাষযোগ্য জমির পরিমাণ রয়েছে ৭ হাজার ১৭১ হেক্টর জমি। যার অনুকূলে সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রতি শতকে ১শ’ গ্রাম ইউরিয়া হিসেবে ৩৫৫ মেঃ টন ইউরিয়া সার প্রয়োজন। অথচ মাছ চাষের অনুকূলে ইউরিয়া সারের কোন বরাদ্দ নেই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দাস জানান, আমন চাষের জন্য বরাদ্দকৃত ইউরিয়া সার ব্যাপকহারে মাছের ঘেরে ব্যবহার হওয়ার কারণে আমন চাষের জন্য সার সংকট দেখা দিয়েছে।
ইউরিয়া সার যা পাওয়া যাচ্ছে তা আবার সরকারের বেঁধে দেয়া মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে কৃষকদের চাহিদার অনুকূলে যোগান দিতে চোরাই পথে ভারত থেকে আমদানি হচ্ছে ইউরিয়া সার। ডিলাররা সংকটের জন্য মাছের ঘেরকে দায়ী করছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম জানান, বিসিআইসি ডিলাররা কোন প্রকারে মাছের ঘেরে ইউরিয়া সার বিক্রি করতে পারবে না। মাছের ঘেরের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর ইউরিয়া সারের চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে।