সাতাশ হাজার টন চিনি নিয়ে বিপাকে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল

নাটোরের লালপুর উপজেলার নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের গুদামে প্রায় ১শ ১০ কোটি টাকা মূল্যের ২৭ হাজার মে:টন চিনির মজুদ নিয়ে বিপাকে পড়েছে মিল কর্তৃপক্ষ। ২০১৪-১৫ আখ মাড়াই মৌসুম শুরুর মাত্র ২মাস বাকি; এসময়ের মধ্যে অন্তত: ১৫ হাজার মে:টন চিনি বিক্রি না হলে এ মৌসুমে উত্পাদিত চিনি রাখার জায়গা পাওয়া যাবে না। এছাড়া অস্থায়ী গুদামে রাখা চিনি ক্রমেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। চিনিকলের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, এই চিনিকলে ২০১০-২০১১ মৌসুমের ১১৭ মে:টন ও ২০১১-১২ মৌসুমের ২হাজার ৬শ ৩৭ মে:টন সহ মোট ২৭ হাজার মে:টন চিনি মজুদ রয়েছে। এবছর প্রায় ৯০লক্ষ টাকা ব্যয়ে তিনটি অস্থায়ী গুদাম ঘর তৈরীর পরও চিনি সংরক্ষণের জায়গারও অভাবে পরিত্যক্ত কড়াই কারখানা, আনসার ব্যারাক, পরিত্যক্ত রেশন ঘর, ক্লাব ঘর, খামারের শস্য গুদাম, মটর গ্যারেজ, সারের গুদাম, বাসা বাড়িসহ মোট ২২টি স্থানে চিনি রাখা হয়েছে। চিনি বিক্রি না হলে আগামী মৌসুমে উত্পাদিত চিনি রাখার জায়গা হবে না। চিনিকলটির মাত্র সাড়ে ৮ হাজার মে:টন চিনি ধারণ ক্ষমতাসমপন্ন একটি স্থায়ী গুদাম ছাড়া সব ক’টি অস্থায়ী গুদাম ঘরই দীর্ঘ সময় ধরে চিনি রাখার অযোগ্য। ফলে চিনির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে চটের ব্যাগে রাখা ২০১২-১৩ মৌসুমে উত্পাদিত ৩২ হাজার ব্যাগ চিনি ইতি মধ্যেই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে বলে সূত্র জানায়। নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল সূত্রে জানা যায়, দফায় দফায় দাম কমিয়েও চিনির বিক্রি বাড়েনি। চিনির মূল্য প্রতি কেজি ৫০টাকা থেকে কমিয়ে ৪০ টাকা করার পর মাত্র ৮ হাজার মে:টন চিনি বিক্রি হয়েছে। বিক্রি হওয়া চিনির সিংহভাগই মিলের শ্রমিক-কর্মচারী ও কৃষকরা চিনি কলের কাছে তাদের পাওনা টাকার বিনিময়ে নিয়ে বাজার দরের চেয়ে কম মূল্যে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছেন। চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবর রহমান জানান, ডিলাররা নিয়মিত চিনি উত্তোলন করছেন না। আবার চিনির দাম কমিয়েও ব্যবসায়ীদের উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। চিনিশিল্প সদর দপ্তরের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে চিনি বিক্রির সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় চিনি ব্যবসায়ী সানোয়ার হোসেন জানান, বর্তমানে পাইকারি বাজারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উত্পাদিত চিনির মূল্য কম থাকায় চিনিকলে উত্পাদিত চিনির চাহিদা নেই। বাংলাদেশ আখচাষি ইউনিয়ন জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী দুলাল বলেন, চিনিকলে উত্পাদিত চিনি অবিক্রিত থাকায় আখচাষিরা সময়মত আখ বিক্রির টাকা না পাওয়ায় আখচাষে আগ্রহ হারাচ্ছে।