মহাকাশে ডাইনির মাথা!
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৪, ১৯:২৮
বাস্তবে কেউ কখনো কি ডাইনি দেখেছে?
আজকের বিজ্ঞান-পড়া আর কম্পিউটার-জানা সোনামণিরা হয়তো চটপট জবাব দেবে— স-ব বোগাস, মিথ্যে, ফাঁকি; বাস্তবে ডাইনি-ফাইনি কিছু নেই। ডাইনি আছে কেবল রূপকথার গল্প-কাহিনীতে।
তারপরও, এ যুগেও কেন ডাইনির কথা মানুষ ভোলে না? এমন কি বিজ্ঞনীরাও কেন আধুনিক কোনো আবিষ্কারের নাম রাখেন ডাইনির নামে? কারণ হলো: ডাইনি যতই কল্পিত এবং অশরীরী হোক না কেন, ঐ নামটি সব ভূতুড়ে আর ভয়ঙ্কর চেহারার প্রতীক হিসেবে ব্যবহূত হয়। যে সব বৃদ্ধা মহিলা একটু বদরাগী, টিঙটিঙে চেহারার এবং হাড়কেপ্পন হয়— গ্রাম-গঞ্জে তাদেরকেও কিন্তু দুষ্টু ছেলেপিলেরা ডাইনিবুড়ি বলে ক্ষ্যাপায়।
শুধু এই মাটির পৃথিবীই নয়, অনন্ত অসীম মহাকাশও বাদ পড়ছে না ডাইনির হাত থেকে।
— মহাকাশে ডাইনি!!
ছোট্ট বন্ধুরা হয়তো আঁেক উঠবে কথাটি শুনে। কিন্তু কথা মিথ্যে নয়। ওপরের ছবিটি দেখো। এই কিম্ভূত অস্পষ্ট আলোময় আদলটি কিসের? ছবির ওপরের দিকে কয়েকটা হায়েনা যেন ওঁত্ পেতে রয়েছে শিকারের আশায়। নিচের দিকও কম যায় না—ভল্লুক, না শিকারী চিতা? তবে একেবারে নিচের দিকটা কেমন? রক্ত হিম হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা যেন! মনে হয় না— একটা রাক্ষুসী ডাইনি কী যেন গিলতে চাইছে কপাত করে? এই ভয়ঙ্কর চেহারার ঐ বস্তুটিকে কেউ যদি ডাইনির সাথে মিলিয়ে নাম রাখে, তাহলে তাকে দোষ দেয়া যেতে পারে না কিছুতেই।
তবে তোমাদের কথাই ঠিক বিজ্ঞানমনস্ক আধুনিক বন্ধুরা, বাস্তবে কিন্তু ডাইনি-ফাইনি কিচ্ছু নেই। ওপরের ছবির লম্বাটে আদলটা ভয়ঙ্কর-চেহারার হলেও এটি কিন্তু মহাকাশের এক পরম বিস্ময়— এক অদ্ভুতদর্শন নীহারিকা, যা মহাকাশ-বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন। অমন কিম্ভূত চেহারার কারণেই বিজ্ঞানীরা এর নামকরণ করেছেন ‘উইচ-হেড নেবুলা’ বা ডাইনির মাথা নীহারিকা। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র দূরবীক্ষণ যন্ত্রে ধরাপড়া নীহারিকাটির ছবি কম্পিউটারাইজ্ড পদ্ধতিতে আরো পরিষ্কার ও ঝকঝকে করে তোলা হয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, নীহারিকাটির তরঙ্গিত মেঘের মধ্যে শিশু-তারকারা বেড়ে উঠছে, বিশাল বিশাল নক্ষত্রের প্রভায় আলোকিত হচ্ছে। মেঘের ভেতরের ধুলো তারার আলোয় উত্তপ্ত হচ্ছে; এ কারণেই তা থেকে আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে।
এই অদ্ভুতদর্শন নীহারিকাটির অবস্থান পৃথিবী থেকে শত শত আলোকবর্ষ দূরে অরিওন নক্ষত্রপুঞ্জে।