ওছখালী আলীয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আমি মৌমি। মায়ের হাত ধরে ৬ বছর বয়সে আমি যে বিদ্যালয়টিতে ভর্তি হয়েছিলাম, সে বিদ্যালয়টির নাম ওছখালী আলীয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি নোয়াখালী জেলাধীন হাতিয়া উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। সবুজ প্রকৃতিঘেরা বিদ্যালয়ের সামনেই রয়েছে এক বিশাল খেলার মাঠ। যেখানে শুধু আমরাই নই, আশেপাশের সমস্ত শিশু-কিশোরের দল প্রতিদিন বিকেলে এবং ছুটির দিনগুলোতে হরেকরকম খেলায় মেতে ওঠে। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে উপজেলা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলো উদযাপিত হয় আমাদের বিদ্যালয় মাঠে। পাশেই রয়েছে একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আর বিদ্যালয়ের পেছনে চোখজুড়ানো, ঢেউখেলানো সবুজ ধানক্ষেত। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬২ সালে এবং জাতীয়করণ করা হয় ১৯৭৩ সালে। প্রাথমিক বৃত্তি, বার্ষিক ফলাফল, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং সার্বিক গুণগত মান বিচার করে একে মডেল বিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হয় ১৯৯৮ সালে। আলোকিত মানুষ তৈরির কারখানা এ বিদ্যালয়টি দ্বীপের অত্যন্ত একটি সমৃদ্ধ বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। আমার এ প্রিয় বিদ্যালয়ে রয়েছেন সুযোগ্য ৮ জন শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক মোঃ ইকবাল। যার সযত্ন তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে সমৃদ্ধির পথে। এ বিদ্যাপীঠে আছেন এমন ৪ জন স্বনামধন্য শিক্ষক, যারা বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘শিক্ষক বাতায়ন’-এর অতি পরিচিত মুখ। তারা হলেন- শ্রদ্ধেয় মাছুমা আকতার, রেবেকা জাহান, শিমুল রানী দাস এবং দিলরুবা খানম আপা। আমার অনেক প্রিয় আপারা অনেক কষ্ট করে, অনেক যত্নে ছবি, অডিও, ভিডিও ব্যবহার করে আমাদের জন্য তৈরি করেন চমত্কার সব কন্টেন্ট। আর সেই ক্লাশগুলো করার জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকি। মাল্টিমিডিয়া শ্রেণি কার্যক্রম আমাদেরকে দিয়েছে এক নতুন দিগন্তের সন্ধান। পাঠকে সহজ, আকর্ষণীয় ও কার্যকর করতে এ আধুনিক পদ্ধতির কোন জুড়ি নেই। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমাদের এখানে রয়েছে প্রচণ্ড বিদ্যুত্ ঘাটতি। তাই নিয়মিতভাবে আমরা মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারিনা। এটা আমার এবং আমার বন্ধুদেরও গভীর দুঃখ। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারনে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। প্রতি বৃহস্পতিবার আপারা আমাদেরকে বিভিন্ন সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন। সংগীত, আবৃত্তি, অভিনয়, স্বরচিত ছড়া, কবিতা লেখা ইত্যাদি বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেশ অগ্রগামী। আমাদের রয়েছে নিজস্ব লাইব্রেরি। দেশ-বিদেশের কবি সাহিত্যিকদের লেখা প্রায় দুই সহস্রাধিক শিশুতোষ বই রয়েছে আমাদের লাইব্রেরিতে। আমরা লাইব্রেরিতে বসে যেমন পড়তে পারি, তেমনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাড়িতেও নিয়ে যেতে পারি পছন্দের বইগুলো। হিন্দু-মুসলিম মিলে এ বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪২২ জন। সবার সাথে সবার সম্পর্ক খুব মধুর। বিগত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বৃত্তি ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পাশের হার শতভাগ এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা গড়ে ৮ থেকে ৯ জন। এ বিদ্যালয়ের প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে আছে আমার শ্রদ্ধেয় স্যার, আপাদের গভীর স্নেহ আর নিখাদ ভালোবাসা। তাঁরা আমাদের আগলে রেখেছেন সন্তানস্নেহে। তাই আমি তাঁদের খুব ভালোবাসি। আর প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি আমার বিদ্যালয়কে।