শান্ত মেয়ে শান্তা

ছোটবেলা থেকে ইচ্ছে ছিল গান ও অভিনয় করবেন। সেজন্য রবীন্দ্র সংগীতের উপর ৪ বছর ধরে তালিম নিলেন বুলবুল ললিতকলা একাডেমীতে (বাফায়)। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতেন বাবা-মায়ের উত্সাহে। পড়াশোনার চাপ মানিয়ে নিয়েও যেতেন স্কুলের থিয়েটার গ্রুপ, বিএনসিসি, স্কাউট, নাচের দল ও ডিবেটিং ক্লাবে। বুলিগুলো অসম্ভব এক গুণী মেয়ে সম্পর্কে সারাংশ মাত্র! তিনি শান্তা রহমান। ইতিমধ্যেই নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে সফল রূপ দিয়ে চলেছেন এই তরুণ অভিনেত্রী ও মডেল। অভিনয় করেছেন বিশটিরও বেশি টেলিভিশন সিরিয়ালে। গ্ল্যামারাস এই তরুণী পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিভার ঝাঁপি মেলে ধরেছেন মডেলিং, অভিনয় ও উপস্থাপনার কাজ করে। সদ্য স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ শেষ করেছেন। এমবিএ করার জন্য ভর্তি হয়েছেন একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে। শান্তার অভিনয়ের শুরুটা ২০০৮ সাল থেকে। স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের বন্ধু রুকু ও সোহেলের অনুরোধে অভিনয় করেন ‘অন্তহীন পথ’ নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রে। টিনএজ মেয়েদের পারিপার্শ্বিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে নির্মিত ছবিটি ‘দশম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উত্সবে’ প্রশংসিত হয়। উত্সবে শান্তার অভিনয় নজর কাড়ে দর্শকের। এরপর ক্যাম্পাসের বন্ধুদের অনুরোধে টুকটাক কাজ করলেও প্রথমবারের মত ছোটপর্দায় অভিনয় করার সুযোগ আসে ২০১০ সালে। অভিনয় করেন বিটিভিতে প্রচারিত ‘নীলঘুড়ি’ শিরোনামের একটি সিরিয়ালে। ধীরে ধীরে মিডিয়ায় শান্তার ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। গেল ঈদে উপস্থাপনা করেছেন জিটিভি-তে ‘সিনে গানে আড্ডা’ ও চ্যানেল নাইনে প্রচারিত ছয়পর্বের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লাইফস্টাইল’-এর ‘ঈদ ফ্যাশন ডট কম’-এ। নিয়মিত কাজ করছেন দেশ টিভির প্রতিদিনের ধারাবাহিক ‘সোনালী মেঘের বেলা’, এনটিভির ধারাবাহিক ‘গোলাযোগ যোগাযোগ’ ও ইটিভির ‘চতুরঙ্গ’ নাটকে। চরিত্রভেদে নাটকে কখনো কখনো শান্তাকে দেখা যায় শান্ত-শিষ্ট মেয়ে রূপে। কখনো আবার হয়েছেন রাফ অ্যান্ড টাফ অথবা সেজেছেন মাফিয়া ডন। অভিনয় প্রসঙ্গে শান্তা বলেন, ‘অভিনয়টা করতে গেলে মনোযোগ দিয়েই করি। তবে সিরিয়ালে কাজ করতেই বেশি ভালো লাগে। সেখানে শেখার সুযোগ অনেক বেশি। হোমওয়ার্ক করা যায়।’ শুধু অভিনয়ই নয় মডেলিং ও উপস্থাপনা দিয়েও নিজেকে ছাপিয়ে গেছেন তিনি। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজের পোশাকের মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। মডেল হয়েছেন ম্যাগাজিন ও পত্রিকারও। নিয়মিতভাবে ফটোশ্যুটের সাথে তাল রেখে হাজির হন পাক্কা উপস্থাপকের ভূমিকায়ও। বিভিন্ন কর্পোরেট ও লাউঞ্জিং প্রোগ্রাম এবং কনসার্টের উপস্থাপনার কাজে সাবলীল উপস্থিতি তার। সাহিত্যের প্রতি আছে আলাদা ঝোঁক। উপস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে ২০১০ থেকে ২০১২ পর্যন্ত পর পর তিনবছর একটানা ত্রিশদিন একুশে টেলিভিশনের হয়ে ‘অমর একুশে বইমেলা’র লাইভ অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেছেন। এছাড়াও উপস্থাপনা করেন বিটিভিতে প্রচারিত জনপ্রিয় ট্রাভেল শো ‘দেশ দেশান্তর’-এর। মানসম্পন্ন কাজে বিশ্বাসী শান্তা।