মাইক্রোসফটের বিশ্ব আয়োজনে বাংলাদেশি ছাত্র!

মাইক্রোসফটের স্টুডেন্ট পার্টনার হিসেবে সিয়াটলে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করা ছিল আমার জন্য খুবই আনন্দদায়ক। গত ২৯ জুলাই থেকে ২ আগষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের সিয়াটলে (মাইক্রোসফট স্টুডেন্ট পার্টনার) এমএসপি সামিট অনুষ্ঠিত হয়। সপ্তাহটি ছিল আমার জন্য উত্তেজনাপূর্ণ এবং উদ্দীপক। বিশ্বের ৫০টি দেশ থেকে ৭৪ জন এমএসপি এতে অংশ নেয়। প্রত্যেক এমএসপি ছিল মাইক্রোসফটের হয়ে তাদের দেশের সেরা ছাত্র। মাইক্রোসফটের হেড কোয়ার্টার এর ক্যাম্পাস ঠিক সিনেমার শহরের মত। রাস্তার দু’পাশে সবুজ ঘাস এবং পাশের বিল্ডিংগুলোর মধ্যে উদ্ভাবনের চর্চা। চারপাশে আলোর ঝলকানি। নিজেকে কাজের ভেতরে আনন্দ খুঁজে পাওয়ার মত এক ধরনের সম্মোহনী ক্ষমতা এখানে সবসময় কাজ করে। আমরা উপভোগ করি মাইক্রোসফট ইন্টারনালদের প্রেজেন্টেশন ও মাইক্রোসফটের অবিশ্বাস্য কাজের ধরন এবং ইমাজিন কাপের মন মাতানো শো। আমাদেরকে মাইক্রোসফটের বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ছিল গবেষণা এবং উদ্ভাবনের জন্য প্রশিক্ষণ। এমএসপি প্রোগ্রামের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার স্কটবারমেস্তার এমএসপিদের কাজ সম্পর্কে বলেন। মাইক্রোসফটের শ্রোতা বিপণন সম্পর্কে বলেন, মাইক্রোসফটের জেনারেল ম্যানেজার (ডেভেলপার) কার্টঅ্যাশটেক, মাইক্রোসফটের সিনিয়র ডিরেক্টর ইভানজেলিস্ট জরজিও সারদো তার এমএসপি থেকে সিনিয়র ইভানজেলিস্ট হয়ে উঠার গল্প শোনান। মাইক্রোসফটের সিনিয়র পণ্য বিপণন ম্যানেজার ব্রায়ানতমলিনসন উইন্ডোজ এবং উইন্ডোজ ফোন অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট নিয়ে, মাইক্রোসফটের টেকনিক্যাল ইভানজেলিস্ট অ্যান্ড্রুপারসন্স গেম ডেভেলপমেন্ট নিয়ে এবং গবেষণা বিভাগের পরিচালক রেনেজনসন মাইক্রোসফট রিসার্চ এবং নতুন প্রকল্প নিয়ে প্রশিক্ষণ দেন। বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে আমরা আমাদের তৈরি করা অ্যাপ মেলায় প্রদর্শন করি। আমি আমার উইন্ডোজ ফোন অ্যাপ ‘বিটল’ প্রদর্শন করি। ‘বিটল’ সঠিকভাবে পাতার রং বিশ্লেষণ করে উদ্ভিদের রোগ নির্ণয় করে থাকে, কিভাবে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায় এবং আরোগ্য লাভ সম্ভব সে পরামর্শ রয়েছে এ অ্যাপে। প্রদর্শনী শেষ হলে আমরা ওয়াশিংটন কনভেনশন সেন্টারে যাই। আমরা সেখানে মাইক্রোসফটের ৫০০০ কর্মীদের সাথে উপভোগ করি ইমাজিন কাপের চূড়ান্ত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। এমএসপি সামিটে ৫০টি দেশের এমএসপিদের সাথে পরিচয় হয়। ইউরোপিয়ান দেশের এমএসপিদের সাথেই বেশি ভাল সম্পর্ক হয়েছে। সিঙ্গাপুরের এমএসপি রন এর কথা না বললেই নয়। ছেলাটা খুবই মিশুক। সমুদ্রের পাড়ে এক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলুম আমরা। সেখানে রন সবার আগে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ল, পরে সবাইকে নামালো। আমি ওয়াশিংটন এর সিয়াটল এবং রেডমন্ডে ঘুরার সুযোগ পাই।