মাল্টিমিডিয়ার স্বপ্ন তিন তরুণের
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৪, ১৯:৫৩
দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ক্যামেরার সাথে। প্রযুক্তিকে তারা খুব ভালোবাসেন আর ভালোবাসেন প্রকৃতিকে। তাই মাঝে মাঝে আড্ডায় বসেন লেকের বড় কোন গাছের নিচে, কথা বলার বিষয় মাল্টিমিডিয়া। আতিক, আনিস, আবির তারা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মাল্টিমিডিয়া টেকনোলজি অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ আর্টস বিষয় (বিএসসি) চতুর্থ সেমিস্টার এর শিক্ষার্থী। শৈশবে এদের কেউ কেউ স্বপ্ন দেখতেন মেডিক্যালে পড়ার, কেউ বা আবার বুয়েটে, কেউবা পাইলট হবেন ইত্যাদি কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতি, যুগের চাহিদা আর বিশ্ব প্রযুক্তি ওদের নিয়ে এসেছে এখানে। তাই সবার স্বপ্ন এখন মাল্টিমিডিয়াকে ঘিরে।
আনিসুর রহমান বলেন, যখন থেকে বুঝতে শিখেছি, তখন থেকে ভাবতাম ব্যতিক্রম কিছু করব। যখন উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করলাম, তখন মনের মধ্যে একটাই চিন্তা কাজ করত। এমন কিছু করব, যেন বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নিজের জন্য, দেশের জন্য কিছু করতে পারি। সেই আগ্রহের তাগিদে ভর্তি হলাম ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মাল্টিমিডিয়া ডিপার্টমেন্ট এ। তখন থেকে শুরু হল স্বপ্ন নিয়ে খেলা আর স্বপ্নের পথে পথচলা। এখন আমি ম্যানুয়াল ওয়ার্ক, টাইপোগ্রাফী, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ইমেজ এডিটিং, ম্যানুপুলেশন, ডিজিটাল ওয়ার্ক ইত্যাদি কাজ শিখেছি। আমরা বিভিন্ন এক্সিবিশন এ ক্যানভাস পেইন্টিং, ইমেজ ম্যানুপুলেশন, শর্ট ফিল্ম, টাইপোগ্রাফী ইত্যাদি কাজ দেখিয়েছি। বর্তমানে আমরা ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, ৩উ অ্যানিমেশন, এর কাজ করছি।
আতিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাল্টিমিডিয়া একটি নতুন এবং আধুনিক শিক্ষা ধারা। পুঁথিগত বিদ্যার গতানুগতিক ধারা থেকে অনেকটাই ব্যতিক্রম এই বিষয়টি। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশকেও যাতে এগিয়ে নিতে পারি এই উদ্দেশ্যেই আমার মাল্টিমিডিয়ায় পড়াশোনা। এরই সুবাদে বর্তমানে কাজ করছি গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ২উ অ্যানিমেশন নিয়ে, এর পাশাপাশি ৩উ অ্যানিমেশন এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট নিয়েও কাজ করে যাচ্ছি।
আবির ইমতিয়াজ বলেন, বর্তমান প্রযুক্তির দৌড়ে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক পেছনে। যেখানে প্রতিবছর হলিউড এ অহরহ ৩উ আনিম্যাশন মুভি এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ব্যবহার হচ্ছে, সেই তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান তালিকার বাহিরে। তবে আমরা আশা করি আমাদের প্রজন্মের হাত ধরে বাংলাদেশ উন্নয়নের সর্বোচ্চ পর্যায় পৌঁছাবে। বর্তমানে কিছু কিছু আনিম্যাশন ফার্ম এই ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের বর্তমান চাকরির বাজারে এর চাহিদাও বেশ ভাল। তাই চাকরি নিয়ে চিন্তা করি না, চিন্তা করি দেশকে এবং আগামী প্রজন্মকে ভাল কিছু কাজ উপহার দিতে।