গত বছর লোকসান ৩শ’ কোটি টাকা
চিনি শিল্প করপোরেশনের লোকসান আড়াই হাজার কোটি টাকা ছাড়ালো
বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৪, ২০:৩৩
বাংলাদেশ চিনি শিল্প করপোরেশনের লোকসানের পরিমাণ আরো স্ফীত হচ্ছে। গত অর্থ বছরে (২০১৩-২০১৪) প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। করপোরেশনের পুঞ্জিভূত লোকসান আড়াই হাজার কোটি টাকা ছড়িয়ে গেছে। এ তথ্য করপোরেশনের হিসাব বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন সূত্রে জানা গেছে। উত্পাদিত চিনি বিক্রি হচ্ছে না। বর্তমানে ৬শ ৩১ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের এক লাখ ৫৭ হাজার ৮শ’ টন চিনি করপোরেশনের চিনিকলগুলোর গুদামে মজুত রয়েছে। দাম কমিয়েও বিক্রি হচ্ছে না। চরম অর্থ সংকটে পড়েছে করপোরেশন। অক্টোবর মাসে আবার চিনিকলগুলো চলতি মৌসুমের উত্পাদন পর্যায়ক্রমে শুরু করবে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে দুইশ’ ৮৭ কোটি ৯৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকা লোকসান হয়। ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে একশ’ ৮২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল। তার আগের অর্থ বছরে লোকসান হয়েছিল একশ’ ৩২ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
চিনি শিল্প করপোরেশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত চিনি উত্পাদন মৌসুমে ১৮ লাখ ১৮ হাজার ৮৬২ টন আখ মাড়াই করে করপোরেশনের ১৫টি চিনি কল এক লাখ ২৮ হাজার ২শ’ ৬৮ টন চিনি উত্পাদন করে। এ চিনির সবটাই অবিক্রীত রয়েছে। এছাড়া আগের বছরের উত্পাদিত ২৯ হাজার ৫শ’ ৩২ টন চিনিও অবিক্রীত। দফায় দফায় দাম কমিয়েও করপোরেশন বেসরকারি রিফাইনারিগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। কয়েক বছর আগে করপোরেশনের উত্পাদিত প্রতি টন চিনির দাম ছিল ৬০ হাজার টাকা। অর্থাত্ প্রতি কেজির পাইকারি দাম ছিল ৬০ টাকা। এরপর দাম কমিয়ে প্রতি টন ৫৫ হাজার টাকা করা হয়। বেসরকারি রিফাইনারিগুলো দাম আরো কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা করে। করপোরেশন ফের দাম কমিয়ে প্রতি টন ৫০ হাজার টাকা করে। বেসরকারি রিফাইনারিগুলো দাম আরো কমিয়ে দেয়। করপোরেশনের চিনির দাম ফের কমিয়ে প্রতি টন ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। বেসরকারি রিফাইনারিগুলোর চিনির দাম করপোরেশনের চিনির চেয়ে বর্তমানে বেশি। বেসরকারি রিফাইনারিগুলোর উত্পাদিত চিনি ১৪ আগস্ট প্রতি টন ৪১ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৪১ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি হয়। অর্থাত্ প্রতি কেজির দাম ছিল ৪১ টাকা থেকে সাড়ে ৪১ টাকা পর্যন্ত। রমজান মাসে প্রতি টন ৪৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে তারা। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করপোরেশনের চিনি ভোক্তা কিনতে চায় না। যে জন্য করপোরেশনের ডিলাররা মিল থেকে চিনি তুলছে না। ্এক সূত্রে জানা যায়, চিনি শিল্প করপোরেশনের মজুত চিনি বিক্রি বাড়ানোর জন্য দুই জন মন্ত্রী, তিন জন সচিব, বেসরকারি রিফাইনারি মিলগুলোর এবং করপোরেশনের প্রতিনিধিদের এক বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল- বেসরকারি রিফাইনারিগুলো চিনির দাম বেশি রাখবে। আর করপোরেশন মজুত চিনির বিক্রি শেষ করবে; কিন্তু এক ব্যবসায়ীর জন্য সে প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
দেশে আখসহ চিনি উত্পাদনের যাবতীয় উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমাদের দেশের চিনিকলগুলোর উত্পাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। প্রতি কেজি চিনির উত্পাদন ব্যয় প্রায় ৯০ টাকা বলে একটি মিল সূত্রে জানা যায়। বিক্রি করতে হচ্ছে ৪০ টাকায়।