জোয়ারের পানিতে কষ্টে জীবনযাপন
আফসার উদ্দিন বাবুল, ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৪, ২১:০১
ভোলার সর্ব দক্ষিণের সাগরঘেঁষা বৃহত্ উপজেলা চরফ্যাশনের এক লাখ মানুষ একটি বেড়িবাঁধের অভাবে মেঘনার জোয়ারের পানিতে মানবেতর জীপন যাপন করছে।
গত একমাস পূর্বে জোয়ারের পানির তোড়ে সাড়ে চার কি: মি: বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার পর পুন:নির্মিত না হওয়ায় এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকটসহ নানা দুর্ভোগে তাদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। একমাত্র চরমাদ্রাজ ইউনিয়নেই নয়টি গ্রামে চল্লিশ হাজার মানুষ জোয়ারের নিদারুণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। চরফ্যাশনের বেতুয়া থেকে চরমাদ্রাজের শামরাজ পর্যন্ত মেঘনায় ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ এলাকা ইতিমধ্যে পরির্দশন করে গেছেন পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল্যাহ আল ইসলাম জ্যাকব। আগামী নভেম্বরের মধ্যে বাঁধ নির্মাণের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন আখন জানান, এই ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে কয়েক দফায় মেঘনার জোয়ারের পানি প্রবেশ করলে চরফ্যাশনের অর্ধেক এলাকা ডুবে যায়। ভাটায় পানি কিছুটা নামলেও পানিতে সয়লাব হয়ে থাকে বিস্তীর্ণ এলাকা। দ্রুত এ বাঁধ নির্মাণ জরুরী। আগামী অমাবশ্যায় আবারও অতি জোয়ারের আশংকায় রয়েছেন চরফ্যাশনবাসী। পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হেকিম জানান, টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে তবে মেঘনার তীব্র স্রোত হ্রাস না পেলে কার্যাদেশ দেয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় জনগণের বক্তব্য পানি থেকে বাঁচার জন্য আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে।
বেড়িবাঁধ এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ রেনু বিবি (৩৫) জানান, জোয়ারের পানির কারণে এক মাস যাবত্ তারা ঘরের মাচায়ে রান্নাবান্না ও খাওয়া দাওয়া করছেন। তারা দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে তাদের বাঁচানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ঐ এলাকার সত্তর বছরের বৃদ্ধ একরাম আলী জানান, এত দীর্ঘ সময় ধরে এলাকা পানিতে ডুবে থাকার নজির তার জানা নাই। তিনি বলেন, কাজে যেতে না পারায় তাদের পেট চলে না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একমাস পরেও পানিতে ডুবে আছে চরমাদ্রাজসহ বিভিন্ন এলাকা। বেড়িবাঁধের অক্ষত অংশটুকুও ভাঙ্গনের কবলে। লোকজন দ্রুত বেড়িবাঁধের ভেতর ও বাইরে থেকে ঘরবাড়ি ভেঙ্গে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। নৌকায় চলাচল করছে এলাকার মানুষ। অপরদিকে ভোলার প্রসিদ্ধ শামরাজ মত্স্যঘাট ও স্লুইসগেটও ভাঙ্গনের কবলে। লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। শত শত বাড়ি ও দোকান পাট সরিয়ে নিচ্ছে লোকজন। এই কয়দিনের বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। ভাঙ্গনে ৫/৬টি বরফকল দেবে গেছে। বেড়িবাঁধ নির্মাণই হচ্ছে পানি থেকে চরফ্যাশন বাসির পরিত্রাণ।