এগিয়ে বাংলাদেশ পিছিয়েও বাংলাদেশ

এক পা করে এগিয়ে যাওয়া, পরক্ষণেই তালগোল পাকিয়ে এক পা পিছিয়ে পড়া—এক বাক্যে খুব সম্ভবত এর চেয়ে ভালভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। আজ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ যখন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটা খেলতে নামবে তখনও বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ ওই একটি বাক্যই। অথচ পরিসংখ্যান বলে এই ক্যারিবিয়রাই মুশফিকদের অন্যতম প্রিয় প্রতিপক্ষ। তাদের বিপক্ষে ২৫ টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের জয় এসেছে সাতটি ম্যাচে। এর চেয়ে বেশি ম্যাচ দলটি জিতেছে আর মাত্র দুটি দেশের বিপক্ষে। তারা হল—নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে। আর সর্বশেষ মুখোমুখি লড়াইয়ের বিবেচনায় উইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে পারফরম্যান্সও আবার ‘অস্বাভাবিক’ রকমের উজ্জ্বল। সেটা দেশের মাটিতে হোক আর দেশের বাইরেই হোক। শুরুটা হয়েছিল ২০০৯ সালের সেই ‘ঐতিহাসিক’ সফরে। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে তখন খেলোয়াড়দের সাথে বোর্ডের টানাপোড়েনের এক পর্যায়ে নামিয়ে দেয়া হয়েছিল প্রায় তৃতীয় সারির একটা দল। ফলাফল টেস্ট আর ওয়ানডে—দুই ফরম্যাটেই হোয়াইট ওয়াশের আনন্দে ভাসলো বাংলাদেশ। শক্তিমত্তার বিবেচনায় উইন্ডিজের সেই দলটি যাই হোক না কেন, পরিসংখ্যানের খাতায় তাদের নাম ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ’ হিসেবেই লেখা থাকবে। এই কথা মাথায় রেখে সেবারের হোয়াইট ওয়াশকে বাংলাদেশের সাফল্য বলেই মেনে নেয়া যেতে পারে। এবার আশা যাক দেশের প্রসঙ্গে। দেশের মাটিতে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ সিরিজ হয়েছিল দু’বছর আগে। সেই সিরিজে টেস্টে বলার মত কোন পারফরম্যান্স না থাকলেও স্বল্প দৈর্ঘ্যের ম্যাচে জ্বলে উঠেছিল মুশফিকুর রহিমের দল। ৩-২ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতে স্বাগতিকদের গ্যাংন্যাম নাচের স্মৃতি হয়তো এখনও দু:স্বপ্ন হয়ে এসে কেড়ে নেয় ক্রিস গেইল-ড্যারেন স্যামিদের রাতের ঘুম! সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরিসংখ্যান বাংলাদেশকে ফেবারিট বলে রায় দিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আলোর নিচেই যে থাকে অন্ধকার। আর সেই অন্ধকারটা বাংলাদেশের জন্যই বেশি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ ফলাফল বিবেচনায় বাংলাদেশ স্বস্তির নি:শ্বাস ছাড়লেও নিজেদের সামপ্রতিক ফলাফলে আছে তীব্র চাপের মধ্যে। সেটা বাংলাদেশের জন্য কতটা যন্ত্রণাদায়ক সেটা ছোট্ট একটা তথ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। সর্বশেষ ২১ আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র দুটি ম্যাচে। তাও সে দুটো আবার দুর্বল প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান ও নেপালের বিপক্ষে। বড় দলের বিপক্ষে জয় খুঁজতে হলে রীতিমত স্মৃতি হাতরানোর দশা! টেস্ট খেলুড়ে কোন দলের বিপক্ষে শেষ জয় এসেছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে। সেটাও গত বছর নভেম্বর মাসের কথা! এর মধ্যে বাংলাদেশ হেরেছে আফগানিস্তান ও হংকংয়ের মত দলের বিপক্ষে। মাত্র ৫৮ রানে নিজেদের মাটিতে অল আউট হয়েছে দ্বিতীয় সারির ভারতের কাছে। এই যখন অবস্থা তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজেদের এগিয়ে রাখাটা কি আদৌ যৌক্তিক হবে? ফরম্যাটটা যখন টি-টোয়েন্টি তখন আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামপ্রতিক পারফরম্যান্স থেকে তৃপ্তি খুঁজে পেতে পারে বাংলাদেশ। সর্বশেষ দলটি ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল গত মার্চে। দেশের মাটিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছিল ২-১ ব্যবধানে। এবার বাংলাদেশের নিজেদের পারফরম্যান্স থেকে তৃপ্তি পাওয়ার পালা! বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে পরিসংখ্যান ম্যাচ: ২৫ বাংলাদেশ: ৭ ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৬ পরিত্যক্ত: ২ দলীয় সর্বোচ্চ রান (বাংলাদেশ): ২৯২/৬ (খুলনা, ২০১২) দলীয় সর্বোচ্চ রান (উইন্ডিজ): ৩১৪/৬ (ঢাকা, ১৯৯৯) দলীয় সর্বনিম্ন রান (বাংলাদেশ): ৫৮ (ঢাকা, ২০১১) দলীয় সর্বনিম্ন রান (উইন্ডিজ): ৬১ (চট্টগ্রাম, ২০১১) ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান (বাংলাদেশ): মুশফিকুর রহিম-৪১৫ ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান (উইন্ডিজ): মারলন স্যামুয়েলস-৫৩৩ ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস (বাংলাদেশ): এনামুল হক বিজয়-১ ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস (উইন্ডিজ): স্যামুয়েলস-১২৬ সর্বোচ্চ উইকেট (বাংলাদেশ): আব্দুর রাজ্জাক-১৮ সর্বোচ্চ উইকেট (উইন্ডিজ): কেমার রোচ-২৪ সেরা বোলিং (বাংলাদেশ): তাপস বৈশ্য-৪/১৬ সেরা বোলিং (উইন্ডিজ): মারভিন ডিলন-৫/২৯ সর্বোচ্চ ডিসমিসাল (বাংলাদেশ): মুশফিকুর রহিম-১২ সর্বোচ্চ ডিসমিসাল (উইন্ডিজ): রিডলি জ্যাকবস (২০)