ভারতে আটক নূরকে ফেরত চেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ভারতের কারাগারে আটক নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ‘শীঘ্রই’ ফেরত আনা হচ্ছে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি সাংবাদিকদের একথা জানান। টিপু মুনশি বলেন, খুব শীঘ্রই তাকে (নূর হোসেন) ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠিয়েছে। তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে এ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে কবেনাগাদ এই উদ্যোগ ফলপ্রসূ হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সময়সীমা বলা যাবে না। তিনি বলেন, কমিটির বৈঠকে নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে নূর হোসেনের গ্রেফতার ও তাকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নারায়ণগঞ্জে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাত হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নূর হোসেন কলকাতায় গ্রেফতার হয়ে তিন মাস ধরে পশ্চিমবঙ্গের কারাগারে রয়েছেন। এই আসামিকে ফেরত আনতে নানা উদ্যোগের কথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হলেও তাতে কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। অপরদিকে নয়াদিল্লি বলেছে, বাংলাদেশ নূর হোসেনকে ফেরত চাইলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। এদিকে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে পুলিশ বাহিনীতে লোকবল নিয়োগ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জনবল বাড়ানো ও মেট্রোপলিটন পুলিশের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া দেশে মাদকের বিস্তার রোধে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্যের এই উপ-কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। মেজর আরিফের গাড়ি চালকের জবানবন্দি নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, আলোচিত ৭ খুনের ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতারকৃত র্যাব-১১ এর সাবেক উপ-অধিনায়ক অবসরে পাঠানো সেনাবাহিনীর মেজর আরিফ হোসেনের গাড়ি চালক নায়েক দেলোয়ার হোসেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম শফিকুল ইসলামের আদালতে এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এতে তিনি সাত হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাতজনকে অপহরণ ও পরে হত্যার যেসব দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে ও অবগত সেসব তথ্য আদালতে জানিয়েছেন। সাত খুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল জবানবন্দির সত্যতা স্বীকার করেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত র্যাব-১১ -এর ৯ জন বিভিন্ন স্তরের সদস্য আদালতে জবানবন্দি প্রদান করলো।