ভর্তুকির বেশিরভাগ টাকা যাচ্ছে প্রভাবশালীদের পকেটে

বিপিসি’র এলপি গ্যাসের ভর্তুকীর ১১৫ কোটি টাকা যাচ্ছে ব্যবসায়ী, আমলা ও প্রভাবশালী লোকজনের পকেটে। সরকার এলপি গ্যাস সিলিন্ডার প্রতিটি ৭২২ টাকা ১৪ পয়সা ভর্তুকী দিয়ে বিপণন কোম্পানীগুলোর কাছে বিক্রি করে। বিপণন কোম্পানীগুলো ডিলারদের মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে বিক্রি করে। দেশের যে সকল স্থানে গ্যাসের সংযোগ নেই মূলত ওই সকল স্থানে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের জন্য ভর্তুকী প্রদান করা হয়। কিন্তু বাস্তব অবস্থা হলো ওই সকল সিলিন্ডার গ্যাস দেশের ওই সকল অবহেলিত এলাকায় খুবই নগন্য সংখ্যায়ই পৌঁছায়। অধিকাংশই শহর অঞ্চলেই বিক্রি হয়ে যায়। বিপিসি’র অধীনে ৪টি বিপণন কোম্পানী পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও স্টান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল (এসএওসিএল) তাদের ডিলারদের মাধ্যমে গ্যাস সিলিন্ডার ভোক্তাদের নিকট বিক্রি করে আসছে। বিপিসি’র চট্টগ্রামস্থ ইস্টার্ন রিফাইনারী লিঃ ও সিলেটে পেট্রোবাংলার আওতাধীন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানী ২০ হাজার মেট্রিক টন বোতলজাত গ্যাস বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে ইআরএল থেকে ১৪ হাজার টন এবং আরপিজিসিএল থেকে ৬ হাজার টন এলপি গ্যাস পাওয়া যায়। ওই হিসাব অনুযায়ী বিপিসি ৪টি বিপণন কোম্পানীর মাধ্যমে বছরে সাড়ে ১২ কেজি ওজনের ১৬ লক্ষ সিলিন্ডার বোতলজাত করে বিক্রি করে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি সিলিন্ডারে ৭২২ টাকা ১৪ পয়সা করে লোকসান দিলে বিপিসি’র মোট ক্ষতি দাঁড়ায় বছরে ১১৫ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা। কিছুদিন পূর্বে এলপিজি’র মূল্য নির্ধারণ কমিটির বৈঠকেও উপরোল্লেখিত ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে বিপিসি’র ৪টি বিপণন কোম্পানীর অধীনে প্রায় ৪ হাজার ডিলার থাকলেও মোট এলপিজি’র বেশির ভাগ সিলিন্ডার পান স্বল্প সংখ্যক ডিলার। সরবরাহকৃত গ্যাস সিলিন্ডারের ২০/৩০ ভাগ পায় ৭০/৮০ ভাগ ডিলার। সৌভাগ্যবান ২০/৩০ ভাগ ডিলারের নামে অধিকাংশ গ্যাস সিলিন্ডার বরাদ্দ হলেও এর আর্থিক সুবিধা পায় বিপণন কোম্পানীর সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তা, বিপিসি’র কতিপয় কর্মকর্তা, আমলা এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের লোকজন ও আত্মীয়-স্বজন। বিপিসি’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের ৫৭টি জেলায় সর্বমোট ২ হাজার ৮৬৮ জন ডিলার রয়েছে। বিপিসি’র ৪টি বিপণন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মেঘনা অয়েল কোম্পানীতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৩৪ জন ডিলার রয়েছে। এরপর যমুনাতে রয়েছে ৭৬২ জন। পদ্মা অয়েল কোম্পানীর রয়েছে ৪৯৯ জন ডিলার এবং এসএওসিএল কোম্পানীতে রয়েছে ৩৭৩ জন। ৪টি বিপণন কোম্পানীর প্রত্যেকটি প্রতিদিন চট্টগ্রাম এলপিজি প্ল্যান্ট হতে ৩ থেকে ৭ গাড়ি গ্যাস সিলিন্ডার পেয়ে থাকে। এ সকল গাড়ীর প্রতিটি গাড়িতে ২৩৮ সিলিন্ডার করে গ্যাস থাকে। একইভাবে প্রতিদিন সিলেটের কৈলাসটিলা থেকে প্রত্যেকে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ গাড়ী গ্যাস সিলিন্ডার পায়। সিলেটের প্রতিটি গাড়িতে সিলিন্ডারের সংখ্যা থাকে ২৮০টি করে।