ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড যাবজ্জীবন সাত
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৯
সুন্দরবনে যৌথবাহিনীর অভিযান চলাকালে দস্যুদের হামলায় র্যাব ও কোস্টগার্ডের তিন সদস্য হত্যা মামলায় আদালত ছয় বনদস্যুকে ফাঁসি ও সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। বাগেরহাটের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস এম সোলায়মান মঙ্গলবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ওই মামলা থেকে দুই জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। ফাঁসি ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১৩ আসামিই পলাতক রয়েছেন। তবে রায় ঘোষণার সময় খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন: রফিকুল শেখ, কুদ্দুস শেখ, ইদ্রিস শেখ, বাবুল শেখ, আলকাচ ফকির ও ইলিয়াস শেখ। এদের সবার বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার খালকুলিয়া গ্রামে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: রিয়াজুল শেখ, আকরাম শেখ, আলম শেখ, বাদশা শেখ, জামাল শেখ, কামাল শেখ ও আসলাম শেখ। এদের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার গাবগাছিয়া ও খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামে। বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত দুইজন হলেন- নান্না শেখ ও মিজানুর রহমান। দস্যুদের হামলায় নিহত যৌথ বাহিনীর সদস্যরা হলেন- র্যাব খুলনা-৬-এর পিসি মো. কাঞ্চন ও কোস্টগার্ড মংলা পশ্চিম জোনের সদস্য এ এইচ কবির এবং এম এ ইসলাম।
জানা গেছে, র্যাব ও কোস্টগার্ডের যৌথ দল সুন্দরবনে দস্যু দমনে ২০০৬ সালের ১ ডিসেম্বর অভিযান চালায়। যৌথবাহিনীর সদস্যরা মংলা উপজেলাধীন পশুর নদীতে পৌঁছালে বনদস্যুরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে দস্যুরা যৌথবাহিনীর সদস্যদের জড়িয়ে ধরে নদীতে ঝাঁপ দেয়। পরে নদী থেকে কোস্টগার্ড ও র্যাবের ওই তিন সদস্যের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার পরদিন র্যাব খুলনা-৬-এর ডিএডি মো. মহাসীন আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজন বনদস্যুকে আসামি করে মংলা থানায় মামলা করেন। মংলা থানার তত্কালীন উপ-পরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন ২০০৭ সালের ৮ মে মামলার তদন্ত শেষে ওই ১৫ বনদস্যুকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।