কাপ্তাইয়ের প্রতিভাবান সংগীতশিল্পী সুমনা তনচংগ্যা
এ কে এম মকছুদ আহমেদ রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৪, ১৯:২৯
কাপ্তাইয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একটি পরিচিতি মুখ সুমনা তনচংগ্যা। একজন তনচংগ্যা গানের শিল্পী হলেও সুমনা আধুনিক ও নজরুল সংগীতে সমান পারদর্শী। কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের গর্জনিয়া পাড়ায় এই শিল্পীর জন্ম একটি সংগীত পরিবারে। সুমনার বড় ভাই প্রমেশ তনচংগ্যা ঢাকার বিভিন্ন মঞ্চে সংগীত পরিবেশন এবং শিক্ষকতা করেন।
পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট সংগীত গুরু রাজেশ সাহার কাছে সুমনা সংগীতের হাতেখড়ি নেন। তার কাছে টানা দু’বছর শেখার পর আর্থিক অনটনের কারণে সংগীত শিক্ষা বন্ধ হয়ে গেলেও গুরু তাকে বিনা বেতনে সংগীত শিক্ষা প্রদান করেন। এখনও সেই, ওস্তাদ রাজেশ সাহার নিকট উচ্চাঙ্গ সংগীত এবং নজরুল সংগীত বিষয়ে তালিম গ্রহণ করছেন। এছাড়া সুমনা তনচংগ্যা সংগীত শিক্ষক ফনীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, তপন দাশ এবং তবলা শিল্পী ঝুলন দত্তের কাছ থেকে গানের কৌশল এবং তালসহ বিভিন্ন বিষয় আয়ত্ত করেন। বাংলাদেশ বেতার রাঙামাটি কেন্দ্রের একজন তালিকাভুক্ত শিল্পী সুমনা। এছাড়াও তিনি কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে দর্শক নন্দিত হয়েছেন।
২০১২ সালে ‘আওচর গীত’ নামে রাঙামাটি জেলা থেকে একটি তনচংগ্যা গানের অ্যালবাম বের হয়। যেখানে সুমনা তনচংগ্যার দু’টি গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
এছাড়াও সম্প্রতি এটিএন বাংলায় প্রচারিত ‘শৈল থেকে সমতটে’ অনুষ্ঠানে সে তনচংগ্যা গান পরিবেশন করেন। বর্তমানে তা প্রচারের অপেক্ষায় আছে। ইতোমধ্যে সুমনা তনচংগ্যা জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা, মৌসুমী প্রতিযোগিতা, রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, কাপ্তাই উপজেলা শিল্পকলা পরিষদ আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেছেন।
তার সংগীত ভুবনে এতটুকু আশার পেছনে তার বাবা ফুল ধর তনচংগ্যা এবং পরিবারের সকলের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। কর্ণফুলী ডিগ্রি কলেজে বিএসএস প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত এই তরুণী ভবিষেত একজন বড় শিল্পী হতে চান। এবং তার এলাকায় একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গঠন করতে চান।