মিতা নূর, মডেল রাহা, মম, ন্যান্সি...

বারবার শোবিজে নারীরাই কেন আত্মঘাতী ?

শোবিজে গত কয়েক বছরের ঘটনা বিবেচনা করলে দেখা যাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারী মডেল ও অভিনেত্রীরাই আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন। এর ভেতরে পুরুষ মডেল হিসেবে ওলি থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীরাই আত্মধ্বংসী হয়ে উঠছেন। গত কয়েকদিনে একাধিক তারকা শিল্পী তাদের ফেসবুকে এমন কথাই পোস্ট করেছেন। সর্বশেষ ন্যান্সি অবশ্য বলছেন নিজের ক্যারিয়ারে ধস ও কনসার্টে বাধা দেওয়ার কারণে এই পথ বেছে নিয়েছেন। কিন্তু তার পেছনেও সাংসারিক এক দ্বন্দ্বের কথাই উঠে আসে। অভিনেত্রী তমালিকা কর্মকার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কোনো কিছুতেই আমি আত্মহত্যাকে সাপোর্ট করতে পারি না। এটা কোনো যুক্তিতেই মানা যায় না। কোনো পুরুষ বা পুরুষশাসিত সমাজ যদি আমাকে বাধা দেয় তবে তো আমার নিজেকেই রুখে দাঁড়াতে হবে।’ অভিনেত্রী বিজরী বরকতউল্লাহ বলেন, ‘আমি সয়ে যাওয়া জীবনে বিশ্বাস করি না বলেই নিজেকে, নিজের সন্তান নিয়ে আলাদা হয়েছি। দিনারকে নিয়ে সুখে আছি। আমি মনে করি না, ক্যারিয়ার বা সাংসারিক বাধা এলেই আত্মহত্যা করতে হবে। এটা আমার কাছে বড় পরাজয়। আমি কোনোভাবেই ন্যান্সির এই সিদ্ধান্তকে সঠিক বিবেচনায় আনতে পারি না।’ এর আগে সাংসারিক জটিলতার রেশ ধরেই অভিনেত্রী মম আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। হাসপাতালে গিয়েই পরে জীবন রক্ষা হয়। যদিও মিডিয়ার কাছে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন। কিন্তু বিভিন্ন বরাত থেকেই বিষয়টি পরে জানাজানি হয়ে যায়। ন্যান্সির সাম্প্রতিক এই ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ন্যান্সির মানসিক অবস্থা জানি না। তবে আল্লাহর অসীম কৃপায় একটি ভুল পথ থেকে সরে এসেছে ও—এটাই সবচেয়ে বড় কথা। আমরা অন্তত ওর জীবনটাকে আর জটিল না করে ওকে বাঁচতে দিই।’ মিডিয়ার অধিকাংশ তারকারাই এমনটাই মত দিয়েছেন। একই সাথে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কণ্ঠশিল্পী বলেন, ‘সাংসারিক ঝামেলার কারণেই আমারও আত্মহত্যার কথা ভাবতে হয়েছিল। কিন্তু সেটাকে স্রেফ পরাজয় ভেবেই আমি সে পথে আর পা দিইনি। আমাদের পুরুষশাসিত সমাজে স্ত্রীদের ক্যারিয়ারের সাফল্যকে স্বামীরা জেলাস করে।’ কণ্ঠশিল্পী আলম আরা মিনু সাম্প্রতিক এই প্রবণতাকে বলেন, ‘এটা স্রেফ পুরুষশাসিত সমাজের কালো দিক। আর ন্যান্সির প্রসঙ্গে বলব, ও একটা চরম ভুল পথে পা বাড়াচ্ছিল। যার দুটি ফুটফুটে সন্তান আছে, সুন্দর একটি ক্যারিয়ার আছে, তাকে কেন আত্মহননের পথ বেছে নিতে হবে? স্বামী বা অন্য কেউ যন্ত্রণা দিলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেই ও সবাইকে পাশে পেত। নিজ থেকে মৃত্যুর মতো পরাজয় মেনে নেওয়ার কী মানে?’ তবে শোবিজে আত্মহননের এই ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়। এই হতাশার উদাহরণে ক্রমেই ঘরের অভিভাবকরা শোবিজের ভালো কোনো কাজে নিজেদের মেয়েদের সম্পৃক্ত করা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে যাবেন বলেই অনেকে মতামত ব্যক্ত করেছেন।