নতুন কর্মী হিসেবে যে কাজগুলো কখনই করবেন না
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৪, ২১:১৪
নতুন চাকরিতে প্রবেশ করামাত্র সেখানে নতুন পরিবেশে নতুন পরিচিতদের সঙ্গে কাজ করতে আপনার জন্য নতুন কিছু নিয়ম হয়তো চালু থাকবে। পুরনো হয়ে গেলেই তাদের সঙ্গে মিশে যেতে পারবেন। নতুন চাকরিতে আপনার ব্যক্তিত্ব, আচরণ, কাজের আদর্শ, বিশ্বস্ততা ইত্যাদি খেয়াল করবেন সবাই। তাই নতুন কর্মী হিসেবে আপনার ৮টি কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রথম কয়েক মাসের মধ্যে ছুটি নেওয়া
নতুন চাকরিতে এসে কয়েক মাসের মধ্যে বিশেষ ছুটির কথা বললে সবাই আপনার দিকে ভ্রুকুঞ্চিত করবে। সবার মনে একটি ভাবনাই থাকবে, নতুন এসেই ছুটি! আপনার প্রয়োজন যত বড়ই হোক না কেন, এই ভ্রুকুঞ্চন থেকে রক্ষা পাবেন না।
বস সম্পর্কে সহকর্মীদের কাছে অভিযোগ করা
নতুন চাকরিতে বসও নতুন। তবে দ্রুত সম্পর্ক গড়ে ওঠে সহকর্মীদের সঙ্গে। তাই বলে বস সম্পর্কে কোনো অভিযোগের কথা সহকর্মীদের সঙ্গে শেয়ার করা একেবারেই উচিত নয়। কারণ যাদের কাছে বলছেন, তাদের মধ্যে কে বসের কাছের মানুষ তা কিন্তু আপনি জানেন না। কাজেই সাবধান!
পুরনো চাকরি ও বস সম্পর্কে বাজে মন্তব্য
নতুন এসে সহকর্মীদের সঙ্গে জমিয়ে ফেলেছেন। তারা আপনার পুরনো চাকরির যুদ্ধবিধ্বস্ত ক্যারিয়ার সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। আপনিও বলে গেলেন হড়বড় করে। নতুন কারও মুখে এসব কথা শুনে সহকর্মীরা মনে মনে বলবেন, এখান থেকে চলে গেলেও নিশ্চয়ই আপনি এখানকার কর্মী ও বস সম্পর্কেও এমন কথা বলবেন।
নিয়ম না জেনেই ইচ্ছামতো লাঞ্চ করা
কর্পোরেট অফিসে লাঞ্চের নিয়ম থাকতে পারে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে তা বিশেষ নিয়ম-কানুনসহ পালন করা হতে পারে। নতুন কোথাও এসে এসব নিয়ম না জেনে বহু সময় ব্যয় করে বা ডেস্কে বসে লাঞ্চ শুরু করে দেওয়াটা অপেশাদারের পরিচয় বহন করে। তাই জেনে নিতে হবে অফিসের লাঞ্চ কালচার।
অফিসের খরচ ইচ্ছেমতো করা
নতুন হিসেবে আপনি নিজেকে ব্যাপক পারদর্শী হিসেবে দাবি করতে পারেন না। এ জন্য যোগ্যতার প্রমাণ দেখাতে হবে। তারপরই অফিসের কাজে ভিজিটে গিয়ে হোটেল খরচ বা গাড়ির খরচের জন্য বেশি দাবি করতে পারেন আপনি। কিন্তু নতুন অবস্থায় এসব কাজের জন্য সাধারণ খরচ করুন।
বাজে কৌতুক করা
সহকর্মীদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু অফিস কালচার বলে একটা বিষয় রয়েছে। তাই সেখানে বাজে কথা বলা বা অশ্লীল কৌতুক করা খুব বাজে কাজ। বিশেষ করে নতুন হিসেবে তো এটা রীতিমতো আপনার খারাপ ব্যক্তিত্বের অধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
সোশাল মিডিয়ায় বেশি সময়ক্ষেপণ
মনোযোগ দিয়ে কাজ করেন—এমনটা একবার প্রমাণ করতে পারলে আপনার ওপর চাপ কমে আসবে। কিন্তু নতুন এসেই যদি অতিরিক্ত সময় ব্যক্তিগত ফোন বা সোস্যাল মিডিয়ায় কাটান, তবে তা দৃষ্টিকটু। এ ক্ষেত্রে আপনার কাজের আদর্শগত দিক সম্পর্কে সন্দেহ দেখা দেবে বস ও সহকর্মীদের মধ্যে।
প্রথম মাসেই অসুস্থতার মিথ্যা অজুহাতে ছুটি কাটানো
অসুস্থ সবাই হতে পারে, এর ওপর আমাদের হাত নেই। অফিসে নতুন যোগ দিয়ে পরদিনই অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। কিন্তু আপনি সত্যিই অসুস্থ হয়েছেন কিনা তা বুঝা যায়। তাই প্রথম মাসেই যদি মিথ্যা অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে ছুটি কাটানোর ঝুঁকি নেন, তবে আপনার সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তবে সতি অসুস্থ হলে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলে তা প্রশংসার সাথে গ্রহণ করা হবে।