অনুমতি ছাড়াই নদী খনন ভাঙনের আশঙ্কা

নির্মিতব্য তিতাস দ্বিতীয় রেল সেতুর জন্য বালু উত্তোলন ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলছে দ্বিতীয় তিতাস সেতু নির্মাণের প্রাথমিক মাটি ভরাটের কাজ। ঐ সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বালু কিনে আনার কথা। কিন্তু খননের নামে তিতাস নদী থেকেই বালু উঠিয়ে সেতু নির্মাণ কাজে লাগানো হচ্ছে। এ জন্য তারা কোনো লিখিত অনুমতিও নেননি। এদিকে বালু উত্তোলনের ঘটনায় আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কেননা এভাবে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে তারা নদী ভাঙনের আশঙ্কা করছেন। আর তা হলে তাদের বসতি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। এছাড়া আখাউড়া রেলওয়ে জংশনও ভাঙনের হুমকির মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি যে ব্রিজের জন্য বালু তোলা হচ্ছে সেটিও হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন এলাকার মানুষ। এলাকাবাসী জানান, একই জায়গা থেকে দিনের পর দিন বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু তোলার জন্য লাগানো হয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মেশিন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের একেবারে পাশ ঘেঁষেই (নদীর আখাউড়া অংশে) একটি ড্রেজার রাখা আছে। ঐ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে ফেলা হচ্ছে তিতাস রেলওয়ে সেতুর পাশেই। যেখানে নির্মাণ করা হবে দ্বিতীয় তিতাস সেতু। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বেশি করে বালু তোলা হয়। বালু উত্তোলন না করার অনুরোধ জানানো হলেও সংশ্লিষ্টরা কর্ণপাত করছেন না। এদিকে বালু তোলার খবরে গত ২৫ জুন আখাউড়ায় বিক্ষোভ করেন কয়েকটি এলাকার লোকজন। আখাউড়ার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে তিতাস থেকে বালু কিংবা মাটি উত্তোলন না করতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেন তারা। পরে তারা পৌর মেয়রের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। পৌর এলাকার গোবিন্দ টিলার তারেক হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ‘তিতাস ব্রিজের পাশে নদীটির প্রস্থ মাত্র ১২০ ফুট। এ অবস্থায় নদীর কিনার থেকে কিংবা মাঝ থেকেও যদি মাটি, বালু তুলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে কয়েকটি গ্রাম ভাঙনের হুমকির মুখে পড়বে। আমরা কোনোভাবেই তা হতে দেব না’। আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন বাবুল বলেন, ‘যেভাবে জনবসতির পাশ থেকে বালু তোলা হচ্ছে তাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়ার কয়েকটি গ্রাম ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এছাড়া আখাউড়া রেলওয়ে জংশনও হুমকির মুখে পড়বে। আর বালু মহাল ঘোষণা না করে কিভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে তা বোধগম্য নয়। আমরা এলাকাবাসীকে নিয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, এ বিষয়ে পৌরসভার মতামত চেয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে আমাদের কাছে চিঠি এসেছে। এলাকার ক্ষতি না করে বালু উত্তোলন করার মতামত দিয়ে আমরা শীঘ্রই চিঠি পাঠাব’। আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ খুরশীদ শাহরিয়র জানান, ড্রেজার আসার পর থেকেই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে। অনুমতি না থাকায় একবার উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হয়। এখন কোনো অনুমতি দেয়া হয়েছে কি-না আমার জানা নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ড. মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড তিতাস নদী খননের একটি পরিকল্পনা করছিল। এখন বালু তোলার মাধ্যমে যদি এ কাজটি হয়ে যায় সেক্ষেত্রে সরকার লাভবান হবে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশা অনুযায়ী বালু উত্তোলন করতে হবে। যাতে করে জনবসতির কোনো ক্ষতি না হয়’। এব্যাপারে একটি প্রস্তাব ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে এবং গত মঙ্গলবার পর্যন্ত কোন প্রকার অনুমতি পাওয়া যায়নি। এদিকে এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডে একটি অনুমতি পত্র পাওয়া গেছে বলে একটি সূত্র জানালেও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন এব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান। বালু উত্তোলনকারী ডিএনকো লিমিটেডের পরিচালক প্রকৌশলী মো. খোরশেদ আলম বলেন, ‘দুই কিলোমিটার এলাকা থেকে এ বালু তোলা হবে। এতে জনবসতির কোনো ক্ষতি হবে না। মৌখিক অনুমতি নিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। লিখিত অনুমতির জন্য চেষ্টা চলছে।