পুরনো উইন্ডিজের নতুন সূচনা

মার্চ থেকে চলতি আগস্ট মাস— এর মধ্যে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে এক রকম নির্বাসিতই ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। সেই অর্থে গতকাল তারা এক অর্থে মুক্তিই পেয়ে গেল। পাঁচ মাস পর তারা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামলো গ্রেনাডায়। আর এই ম্যাচ দিয়েই শুরু হয়ে গেল ক্যারিবীয় দলটির বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক ডোয়াইন ব্রাভোর কথাতেও বোঝা গেল, বাংলাদেশ সিরিজ নয় বরং বিশ্বকাপকে নিয়েই এই মুহূর্তে তার সকল চিন্তা, ‘আসলে প্রতিটা সিরিজকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গুরুত্ব দিতে হয়। আর ওয়ানডে ক্রিকেটটাকে একটু আলাদা করে বিবেচনা না করার কোনো বিকল্প নেই। আর বিশ্বকাপও প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে। দিন হিসেব করলে দেখা যাবে আমাদের সামনে অনেক সময়। কিন্তু আসলে মোটেও ব্যাপারটা তেমন নয়। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ থেকে আমরা মাত্র ১০ ম্যাচ দূরে আছি। তাই বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই আমাদের জোর প্রস্তুতি শুরু করে দিতে হবে।’ আর বিশ্বকাপেই যখন চোখ, তখন সেই প্রস্তুতিতে মোটামুটি পছন্দের দলকেই সাথে পেলেন ডোয়াইন ব্রাভো। ইনজুরি কাটিয়ে তিনি নিজে ফিরেছেন। এর বাদে কনুই ইনজুরি কাটিয়ে টি-টোয়েন্টির পর এবার ওয়ানডে দলেও জায়গা করে নিয়েছেন কাইরন পোলার্ড। ডাক পেয়েছেন পেসার কেমার রোচও, ফিরেছেন ইনজুরি থেকে। বিশ্রাম থেকে ফিরেছেন ক্রিস গেইলও। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের এক নম্বর দলটাকেই নামিয়ে দিয়েছে উইন্ডিজ। বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ক্রিস গেইল সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচটি খেলেছিলেন গত বছর নভেম্বরে। সব মিলিয়ে পরিপূর্ণ এক দল হাতে পাওয়ার তৃপ্তিই ঝরলো ব্রাভোর কণ্ঠে, ‘আসলে আমি এই সিরিজটার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। অনেকদিন পর আমরা সবাই এক হয়ে ক্রিকেট খেলতে পারবো। এটা আমাদের ক্রিকেটের জন্যও ইতিবাচক।’ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মার্চ মাসে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট ডুবেছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য। মাত্র চারদিন আগেই শেষ হয়েছে ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) দ্বিতীয় আসর। সেদিক থেকে ওয়ানডে ম্যাচটা ‘ভিন্ন কিছুর স্বাদ’ হয়েই এসেছে ডোয়াইন ব্রাভোদের সামনে। অন্তত ক্যারিবীয় অধিনায়ক এমনটাই মন্তব্য করলেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। কিন্তু তারপরও কেন যেন আমরা সব সময় ঠিক সফলতা পাই না। আর ওয়ানডে ক্রিকেটে আমরা ফিরছি অনেকদিন পর। সবকিছু মিলিয়ে আমরা তাই ভিন্ন কিছু একটার স্বাদ পেতে যাচ্ছি।’ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজটা অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য বিশেষ সুখকর ছিল না। দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত সেই সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল স্বাগতিকরা। এই অবস্থা থেকেই বিশ্বকাপ মিশনে নামলো দলটি। সংবাদ সম্মেলনে শেষ ভাগে আবারও সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দিলেন ড্যারেন স্যামিকে সরিয়ে অধিনায়কত্ব পাওয়া ব্রাভো, ‘একটা ব্যাপারে আমি খুবই সন্তুষ্ট কারণ আমি এই অঞ্চলের সেরা ক্রিকেটারদের এক সাথে পেয়েছি। আর তাদের সবাই শতভাগ ফিট। আগেও বলেছি, বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটা আমাদের জন্য নিজেদেরকে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করে নেয়ার মিশন। আমাদের ভাল পেসার, স্পিনার, ব্যাটসম্যান সবই আছে। কেবল নিজেদের একটু ঝালাই করে নিতে হবে।’ তবে, বিশ্বকাপের আগে আরও কয়েকটি ব্যাপার নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোনো বিকল্প নেই। সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে অধিনায়কের নিজেরই। গতকালকে সিরিজ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত সাত ম্যাচ দলটির অধিনায়কত্ব করে ব্রাভো জয় পেয়েছেন মাত্র তিনটিতে। সেই চ্যালেঞ্জের প্রথম পর্বটা শুরু হয়ে গেল গতকাল!