ঢলে দেড় কিলোমিটার আকস্মিক জলাধার

ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে বয়ে আসা ঢলে সদর উপজেলার গরীনাবাড়ী ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আকস্মিক একটি নদীর সৃষ্টি হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ প্রত্যন্ত এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসছে এই নতুন নদী দেখতে। সমতল জমিতে হঠাত্ করে ১৫ থেকে ২০ মিটার প্রস্থ এবং প্রায় দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই নদী সৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয়রা জানায়, সদর উপজেলার গরীনাবাড়ী ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের ওই স্থানে সামান্য একটা খাল ছিল। গত ক’দিন ধরে ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে বয়ে আসা ঢলে আকস্মিকভাবে সেখানকার কয়েকটি ধানক্ষেত বিশাল পুকুরে পরিণত হয়। তলিয়ে যায় ধান, আখ, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। চারদিক থেকে আসা পানি জোরালো স্রোতে নদীর মত দক্ষিণে ভাটির দিকে যেতে থাকে। নদীর পানি এক পর্যায়ে ওই ইউনিয়নের দেড় কিলোমিটার দূরে টাঙ্গন নদীর পাশের মহারানী বাঁধে গিয়ে মিলিত হয়। এতে প্রায় দুইশ’ একর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জেলার প্রত্যন্ত এলাকা ছাড়াও পাশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষজন ছুটে আসছেন নতুন নদী দেখতে। এ ঘটনায় কাশিমপুর গ্রামসহ গোটা এলাকায় উত্সবের আমেজ দেখা গেছে। গড়ে উঠেছে অস্থায়ীভাবে চা-পানের দোকান সাইকেল-মোটরসাইকেল গ্যারেজ এবং খাবার দোকান। দর্শনার্থীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয়রা। গরীনাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আলতামাস হোসাইন লেলিন নদী সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আবাদি জমির মাঝখানে একটি পুকুরে তিনদিক থেকে আসা পানি এসে একটি জলাধারের সৃষ্টি হয়েছে। এই পানি ‘ভাটি’র দিকে যেতে যেতে নদীর মতই মনে হচ্ছে। পানি নেমে না গেলে বোঝা যাবে না আসলে কি ঘটেছে বা ঘটবে। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের আগস্ট মাসে বোদা উপজেলার কাজলদীঘি কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের তেলীপাড়া গ্রামে একটি হঠাত্ নদী জেগে উঠে। এ খবর পত্রিকায় প্রকাশের পর সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এরপর আর সেই নদীর দেখা নেই। শুধু বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে জমির উপর দিয়ে ড্রেনের মত পানি বয়ে যায়।