পাকিস্তানের রেড জোনে ঢুকেছে বিক্ষোভকারীরা
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৪, ২৩:০৫
পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খান ও পাকিস্তান আওয়ামী তাহরিক (পিএটি) পার্টির শীর্ষনেতা তাহিরুল কাদরির নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা রাজধানী ইসলামাবাদের স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ‘রেড জোনে’ প্রবেশ করেছে। সরকারি নিরাপত্তা চাদরকে অতিক্রম করে গতকাল বুধবার রেড জোনে প্রবেশ করে বিক্ষোভকারীরা। তারা পার্লামেন্ট ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। পার্লামেন্টে আসা-যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন। এদিকে সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খান এবং কাদরির প্রতি সমন জারি করেছে। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন বলে জানিয়েছেন। সেনাবাহিনী সরকার এবং বিরোধী দলকে সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকরা পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিকে খুবই ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, নওয়াজ শরীফের ভূমিকায় সেনাবাহিনী হতাশ হতে পারে। পাকিস্তানের বর্তমান সহিংসতার প্রেক্ষিতে দেশটিতে সফর করেছেন না শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট। খবর ডন, টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি ও বিবিসির।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আলোচনার মাধ্যমে দেশটির চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে গতকাল বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে পদত্যাগের মেয়াদ বেঁধে দেয়ার পর বিবদমান রাজনৈতিক পক্ষগুলোকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানায় সেনাবাহিনী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিম বাজওয়া ধৈর্য অবলম্বন ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের এ আহ্বান জানান। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে অর্থবহ সংলাপের মাধ্যমে চলমান অচলাবস্থা নিরসন করতে সকল পক্ষকে প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে।
এদিকে পাক সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইসলামাবাদের ‘রেড জোনে’ ঢুকে পড়েছে সব শ্রেণির মানুষ। এই জোনে প্রায় ৩০ হাজার বিক্ষোভকারী রয়েছে। এ দলে নারী-পুরুষ ও শিশুও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনসহ বিদেশি দূতাবাসগুলো এ এলাকায় অবস্থিত। নওয়াজ শরীফের পদত্যাগের দাবিতে পিটিআই এবং পিএটি গত পাঁচ দিন ধরে অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে আসছে। নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য ইসলামাবাদে নিরাপত্তা বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ইমরান খান বলেছেন, নওয়াজ শরীফ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যাবেন না। তিনি পাকিস্তানি জনগণকে সমাবেশে যোগ দিয়ে সরকার পতনের এই আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে আহ্বান করেছেন। পাশাপাশি পুলিশকে কোন অন্যায় সিদ্ধান্ত না নিতেও অনুরোধ করেছেন। ইমরান আরো বলেন, পিটিআই’র নেতৃত্বে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র আনতে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। একই দাবি জানিয়েছেন কাদরিও। তিনি বিক্ষোভকারীদের বলেছেন, পার্লামেন্ট ভবনে কোনো মানুষ এমনকি কোনো মশাও যেন প্রবেশ করতে এবং সেখান থেকে বাইরে বের হতে না পারে। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ চাপের মুখে পদত্যাগ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নওয়াজ। এ সময় তিনি বলেন, আলোচনার জন্য দরজা খোলা রাখা হবে। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন না। বৈঠকে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইমরানের পিটিআই’র সাথে যৌথভাবে আন্দোলন করছেন ধর্মীয় তাহিরুল কাদরির পিএটি। দল দুটি মঙ্গলবার বিকাল থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের ‘রেড জোনে’ আলাদা সমাবেশ করেছে। যদিও সেনাবাহিনী ও পুলিশের পক্ষ থেকে রেড জোনে প্রবেশ না করতে ইমরানকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ইতোমধ্যেই ইসলামাদের বিভিন্ন এলাকা থেকে পিটিআই ও পিএটি’র প্রায় ২ শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এদিকে পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী সাদ রফিকী এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ দেশের কল্যাণে পিটিআই নেতা ইমরান খানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান রফিকী। গত বছরের মে মাসে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন পিটিআই নেতা ইমরান খান ও পিএটি নেতা তাহিরুল কাদরি। ওই নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পদত্যাগ, সরকার পতন ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে অনেকদিন ধরেই আন্দোলন করছেন এই দুই নেতা।