বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংসদীয় কমিটি মুখোমুখি
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৪, ২৩:০৬
চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নিউমুরিং কন্টেইনারের (এনসিটি) ইকুইপমেন্ট কেনা হচ্ছে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। জানা যায়, এনসিটি’র জন্য বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে ইকুইপমেন্ট কেনার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে সংসদীয় কমিটির আপত্তি জানায়। গত এপ্রিল মাসে সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরের অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে ব্যাপক আলোচনা হয়। ঐ বৈঠকে বন্দরের জন্য একটি বিশেষ ধরনের স্কেভেটর মেশিন ক্রয়ে দুর্নীতি তদন্তে কমিটিও গ্রহণ করা হয়। একই বৈঠকে এনসিটি পরিচালনার জন্য বন্দরের নিজস্ব অর্থ ব্যয়ে ইকুইপমেন্ট না কেনার পক্ষে কমিটির সদস্যরা অবস্থান নেন। কিন্তু এরপরও বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের অনড় অবস্থান থেকে সরে না এসে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় সাড়ে ৩শ’কোটি টাকা ব্যয়ে ৬টি গ্যান্ট্রিক্রেন কেনার টেন্ডার আহ্বান করে। এক পর্যায়ে অর্থমন্ত্রী একপত্রে বন্দরের অর্থে ইকুইপমেন্ট না কিনতে বলেন। এর প্রেক্ষিতে টেন্ডার স্থগিত করা হয়। জানা যায়, এনসিটি পরিচালনার জন্য প্রায় ১২শ’ কোটি টাকার ইকুইপমেন্ট কেনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বন্দরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এনসিটি পরিচালনার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ ইকুইপমেন্ট ক্রয় করবে। তবে এর পরিচালনার জন্য বাইরে থেকে অপারেটর নিয়োগ করা হবে।
অপরদিকে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ যেহেতু পরিচালনার জন্য প্রাইভেট অপারেটর নিয়োগ করবে, সেক্ষেত্রে বন্দরের এ বিশাল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন নেই। তাছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষের ইতিপূর্বেকার বিপুলসংখ্যক কেনাকাটার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাই যে প্রাইভেট অপারেটর এনসিটি পরিচালনা করবে তারাই ইকুইপমেন্টসহ অপারেশনের দায়িত্ব পালন করবে। কারণ বন্দরের ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করে কোন প্রকার বিনিয়োগ ছাড়া অপারেশন কাজ চালালে অপারেটর বন্দরের শত শত কোটি টাকার ইকুইপমেন্টের প্রতি যত্ন নেবে না। এমনকি ইকুইপমেন্টের যথেচ্ছা ব্যবহারে ইকুইপমেন্টসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনার জন্য ইকুইপমেন্ট কেনা না কেনা নিয়ে রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের মধ্যেও পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান লক্ষ্য করা যায়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি এ নিয়ে একটি সাব-কমিটি গঠন করে। সাব-কমিটি আজ বৃহস্পতিবার সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তাদের সুপারিশ পেশ করবে বলে জানা যায়। সূত্রে জানা যায়, সাব-কমিটিও বিশাল অঙ্কের বন্দরের অর্থ ব্যয় করে ইকুইপমেন্ট না কেনার পক্ষে সুপারিশ করেছে। এই সাব-কমিটির মতামতের ভিত্তিতেই সংসদীয় কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সংসদীয় কমিটি চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিপূর্বেকার কয়েকটি প্রকল্পের ব্যয় এবং ইকুইপমেন্ট ক্রয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে আলোচনা করবে।