ওটিসি’র কোম্পানিকে মূল বাজারে ফেরাতে চায় আইসিবি, নারাজ স্টক এক্সচেঞ্জ
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৪, ২০:২৪
ওভ্যার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি’র কোম্পানিগুলোকে ‘ও’ নামে ভিন্ন ক্যাটাগরিতে মূল শেয়ারবাজারে ফিরিয়ে আনতে চায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। গেল সপ্তাহে ওটিসি বাজারভুক্ত কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে বৈঠকে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের কর্তৃপক্ষের কাছে এ নিয়ে প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে। এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকেও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তবে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ ওটিসির কোম্পানিগুলোকে শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত মূল বাজারের লেনদেনে ফিরিয়ে আনতে নারাজ।
জানা গেছে, মূল বাজারে ফিরতে কোম্পানিকে অন্তত ৩০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন থাকতে হবে। এছাড়া নিয়মিত এজিএম এবং লভ্যাংশ প্রদানসহ অন্যান্য শর্তও পরিপালন করতে হবে। এসব শর্ত পরিপালন করে যে কোম্পানি পুনঃতালিকাভুক্তির আবেদন করবে, তার আবেদনই বিবেচনা করা হবে। এছাড়া ডিএসই জানিয়েছে, এসব কোম্পানির শেয়ার লেনদেন সহজ করার স্বার্থে শিগগিরই ইলেট্রনিক বোর্ড স্থাপন করা হবে।
সূত্র জানায়, ওটিসি বাজারের বেশ কয়েকটি কোম্পানিতে আইসিবির বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে যাওয়ায়, আইসিবি এ কোম্পানিগুলোকে মূল বাজারে ফিরিয়ে আনতে উপায় খুঁজছে। ওটিসিভুক্ত কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, একাধিক কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিচ্ছে। কিন্তু কোম্পানির অধিকাংশ শেয়ারই ডিমেট (ইলেকট্রনিক শেয়ার) না হওয়ায় কোম্পানির মূল বাজারে ফেরার আবেদন বিবেচিত হচ্ছে না। সিডিবিএল-এ শেয়ার ডিমেট করার এবং স্টক এক্সচেঞ্জে পুনঃতালিকাভুক্তি ফি বেশি হওয়াও কোম্পানি মূল বাজারে ফিরে আসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা।
এদিকে আইসিবির পক্ষ থেকে বিএসইসি এবং দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে শেয়ার ডিমেট ব্যয় এবং তালিকাভুক্তির ফি কমানোর বিষয়ে সুপারিশ জানাবে বলে জানা গেছে। তবে কোম্পানিগুলোকে অন্য শর্ত পূরণে আন্তরিক হতে হবে বলেও তিনি মনে করেন। তবে ডিএসই কর্তৃপক্ষ বলছে, আইসিবির প্রস্তাব অনুযায়ী ‘ও’ ক্যাটাগরিভুক্ত করে ওটিসিভুক্ত কোম্পানিকে মূল শেয়ারবাজারে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব প্রকৃত পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ওটিসি বাজারের শেয়ার কেনাবেচা সহজ করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে। কর্তৃপক্ষ আরও বলছে, ওটিসিভুক্ত কোম্পানিগুলোকে যে শর্ত পূরণ করতে না পারায় মূল বাজার থেকে তালিকাচ্যুত করা হয়েছে, তা এখনও রয়ে গেছে। তাই এদেরকে মূল বাজারে আনা সম্ভব নয়। এদিকে সিএসই স্বল্প মূলধনী এবং তালিকাভুক্ত নয় এমন যেকোন কোম্পানির জন্য বিকল্প বিনিয়োগ বাজার বা অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেট করার কথা ভাবছে।