বৃষ্টিমুখর এফডিসিতে একবেলা...
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৪, ২১:০৯
ইত্তেফাক বিনোদন প্রতিদিনের এটি নতুন বিভাগ। ছুটির দিনে পাঠকদের ভিন্ন গল্প শোনাবার, জানাবার জন্যই এই আয়োজন। প্রতি সপ্তাহে তারকাদের আড্ডার খোশগল্পগুলোই জানানো হবে এই বিভাগে। আড্ডার বিষয় নিয়ে প্রিয় পাঠক আপনারাও লিখতে পারেন। আড্ডার সূত্রধর ছিলেন মোস্তাফিজ মিঠু ও দিব্যজোতি দত্ত। ছবি তুলেছেন সোহেল মামুন
প্রচণ্ড রোদ আর ট্র্যাফিক জ্যাম উপেক্ষা করে পূর্বনির্ধারিত সময়ে এফডিসির প্রযোজক সমিতির সামনে অপেক্ষা করছিল আমাদের বিনোদন টিমটি। মুঠোফোনে কথা বলতে বলতেই কাচের দরজার ওপার থেকে হাত দিয়ে ইশারা দিলেন ঢালিউডে সময়ের ব্যস্ত চিত্রনায়ক জায়েদ খান। কুশলাদি বিনিময়ের পর জায়েদ খান ও আমরা সম্মেলন কক্ষে বসলাম। প্রচণ্ড জ্যামে আড্ডার বাকি তারকারা তখনও এসে পৌঁছাননি। পূজা আটকে আছেন মগবাজারে। আর ফিরোজ শাহী ও তানহা মহাখালি জ্যামে। অন্যদিকে প্রিয়া আমান তখনও গাবতলীর জ্যামে বসে আছেন। সব শুনে জায়েদ ভাই বললেন, ‘একক ফটো সেশনটা তাহলে সেরে ফেলি।’ শিল্পী সমিতির সামনের বাগানে জায়েদ খানের ফটোসেশনে তখন ব্যস্ত হয়ে গেলেন আমাদের সোহেল ভাই।
ফটোসেশনের সময় উপস্থিত দর্শকেরা ঘিরে ধরলেন তাদের প্রিয় তারকাকে। সেশনের মাঝে জায়েদ ভাইও সাড়া দিচ্ছিলেন তাদের। কেউ কেউ আবার তার ছবির গান আওড়াচ্ছিলেন। ফটোসেশনের শেষের দিকে দেখা গেল আকাশ চোখ রাঙাতে শুরু করেছে। ব্যাগ-প্যাক গুটিয়ে আমরা সম্মেলন কক্ষে ছুটলাম।
ঘড়ির কাঁটা তখন ৪টা ছুঁইছুঁই। আমাদের আড্ডায় যোগ দিলেন চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ তারকা পূজা। মাথা নাড়তে নাড়তে বললেন, ‘এত্ত জ্যাম! অনেক কষ্ট করে আসতে হয়েছে।’
ঠাণ্ডায় কণ্ঠের অবস্থা বেজায় খারাপ পূজার। জায়েদ ভাই পূজার জন্য এক কাপ গরম আদা চায়ের ব্যবস্থা করলেন। পূজা গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতে বাকিদের খবর জানতে চাইলেন। পূজার কাছে এখনকার ব্যস্ততার কথা জানতে চাইলাম। ছোটবেলা থেকেই গানের সাথে সম্পৃক্ত পূজা। নতুন কুঁড়ি থেকে শুরু জাতীয় পর্যায়ের নানা ধরনের পুরস্কার ঠাই পেয়েছে তার শোকেসে। তবে কেন রিয়্যালিটি শোয়ের পথ ধরে আসা? এমনই প্রশ্নে পূজার উত্তর ছিল, ‘রিয়্যালিটি শোয়ের মধ্য দিয়ে আমার আসার কোনো ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু যখন চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠের বিচারক আসনে রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমিন ম্যামকে দেখলাম তখনই ইচ্ছা হলো রেজিস্ট্রেশন করার।’
পূজার কথা শেষ না হতেই আমাদের আড্ডায় যোগ দিলেন ফিরোজ শাহী ও তানহা জাফরিন। বরাবারের মতো তানহার মুখে হাসি লেগেই আছে। জায়েদ ও পূজার সাথে নিজেদের ‘হাই-হ্যালো’ সেরে নিয়ে আড্ডায় যোগ দিলেন তারা। ফিরোজ শাহীকে কাছে পেয়ে জায়েদ খান যারপরানই খুশি। ফিরোজ শাহী প্রিয়া আমানের খোঁজ করলেন। প্রিয়া তখন পর্যন্ত এফডিসির কাছে এসে পৌঁছাননি। বাইরে তখন মুষল ধারে বৃষ্টি। ফিরোজ শাহী জায়েদ খানের কাছে জানতে চাইলেন, ‘ভাই এত শুকালেন কীভাবে?’ জায়েদ খান শার্টের বোতাম খুলে দেখালেন, ‘ভাই সিক্স প্যাক বানিয়েছি। নয় মাস ধরে ভাত খাই না। এ কয় মাসে ১৬ কেজি ওজন কমালাম।’
ঐদিকে তানাহা চুপচাপ সবার গল্প গিলছিলেন। এবার তানহার দিকে একটু দৃষ্টি দিলাম। জিজ্ঞেস করলাম আড্ডা আর বৃষ্টি কেমন লাগছে। মিষ্টি হেসে তানহার উত্তর, ‘খুবই ভালো লাগছে। সবার সাথে অনেকদিন পর দেখা।’ তানহার ছবি মুক্তির কথা জিজ্ঞেস করলাম। তানহা ফিরোজ শাহীকে দেখিয়ে বললেন, ‘প্রযোজক জানেন।’ ফিরোজ শাহী জানালেন তাদের প্রথম ছবি ‘এই গল্পে ভালোবাসা নেই’ কোরবানি ঈদে মুক্তি পাবে। তানহা জানালেন, ‘একই ব্যানার থেকে আরও তিনটি ছবি করব। এই টিমের সাথে পরিচয় ও বোঝাপড়া খুব ভালো। তাই অন্য কাজগুলোও করতে যাচ্ছি। তবে এরপর অবশ্যই বাইরে কাজ করব।’
এবার ফিরোজ শাহীর দিকে মোড় নিলাম। জানতে চাইলাম ছোটপর্দার তারকার বড়পর্দায় নিজেদের মেলে ধরতে পারেন না। ছোটপর্দার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর বড়পর্দায় নতুন কী নিয়ে হাজির হচ্ছেন? ফিরোজ শাহীর সোজাসাপটা উত্তর, ‘হ্যাঁ আমি স্বীকার করছি এ ধরনের ইতিহাস আছে। তবে আমার ছবি দেখে হয়তো দর্শকদের এই ধারণা বদলে যাবে। আমার ছবির মূল শক্তি গল্প। আর নির্মাণের ব্যাপারেও আমরা কোনো ছাড় দিইনি। ঝরে পড়ার জন্য না, নিজেকে মেলে ধরতেই এসেছি।’
আড্ডা সবে জমে উঠেছে, খানিকক্ষণেই প্রযোজক সমিতি কক্ষে ‘অদৃশ্য শত্রু’র নায়িকা প্রিয়া আমানের আগমন। সবার দৃষ্টি তার দিকে। পূর্ণতা পেল আমাদের আড্ডা।
প্রিয়ার শরীরের কথা জানতে চাইলে প্রিয়া জানালেন তিনি ভালো আছেন, তবে শরীর খানিকটা দুর্বল। শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে প্রিয়ার প্রথম ছবি ‘অদৃশ্য শত্রু’। আর ছবি মুক্তির আগেই আমাদের আড্ডায় জানালেন তার অনুভূতির কথা। বললেন, ‘প্রথম ছবি নিয়ে ভালোলাগার অনুভূতি বলার মতো না। মজার বিষয় হচ্ছে এই ছবিতে যখন আমি কাস্ট হই তখন আমি এক নাটকে শুটিং করছিলাম। হঠাত্ জায়েদ ভাই আমাকে ফোন দিয়ে জানালেন। মুক্তির প্রহর ঘনিয়ে এসেছে। ইনশাআল্লাহ ভালো সাড়া পাব।’
আড্ডা প্রায় শেষের দিকে। রুমের মধ্যেই আবারও সবার ফটোসেশনে ব্যস্ত আমাদের ফটোগ্রাফার সোহেল মামুন। চলল পূজার ফটোশুট।
বাইরে বৃষ্টি ততক্ষণে বাড়ি ফিরে গেছে। পশ্চিম আকাশ থেকে সোনালি আলো উঁকি দিচ্ছে। প্রযোজক সমিতির সামনে সবাই আবারও ফটোসেশনে ব্যস্ত। তারকাদেরও ফেরার তোরজোড়। তাই সবাই একে অন্যের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিলেন। আমরাও সবাইকে বিদায় জানিয়ে এফডিসি থেকে বের হলাম। তারারা রাতের আকাশে জ্বলছে। আমরা অফিসের পথে হাঁটছি।