ঢাকা মেডিক্যাল থেকে নবজাতক চুরি
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৪, ২২:০২
ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে বৃহস্পতিবার সকালে এক নবজাতক চুরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে মধ্যবয়সী এক মহিলা নবজাতকের মায়ের সঙ্গে সখ্য গড়ে কৌশলে তাকে নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শাহবাগ থানায় হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার বাবুল মিয়া বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।
শিশুটির বাবা কাওসার হোসেন বাবু জানান, তিনি স্ত্রী রুনা আক্তারকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের এফ-ব্লকের জহুরী মহল্লার ৪১/৯ নম্বর বাসায় থাকেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে রুনার প্রসব বেদনা শুরু হলে রাত ৩টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ঘন্টাখানেক পর যমজ ছেলের জন্ম দেন রুনা। এরপর থেকে মা ও দুই শিশু হাসপাতালের ২১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ছিলেন। বুধবার মধ্যবয়সী এক মহিলা এসে রুনার সঙ্গে পরিচিত হয়। তিনি গল্পের ছলে বলেন, তার ভাইয়ের স্ত্রীর একসঙ্গে তিনটি সন্তান হয়েছে। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই তার এক সন্তান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। শুধু রুনাই নন, ২১৩ নম্বর ওয়ার্ডের আরও কয়েকজন রোগীর সঙ্গে তিনি নিজে থেকে কথা বলেন। মাঝে মধ্যেই এসে রুনার সঙ্গে গল্প করেন। তার শিশু দু’টিকে কোলে নিয়ে আদরও করেন। গতকাল সকালে পৌনে ৮টার দিকে রুনার দুই ছেলে একসঙ্গে কাঁদতে শুরু করে।
কান্না থামাতে তিনি এক ছেলেকে কোলে নিয়ে দুধ পান করান। তখন ঐ মহিলা এসে কাঁদতে থাকা অপর ছেলেটিকে কোলে নিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা চালান। তিনি শিশুটিকে নিয়ে ওয়ার্ডের মধ্যেই পায়চারি করছিলেন। কিছু সময় পর হঠাত্ রুনা দেখেন, সেই মহিলা নেই। আশেপাশেই কোথাও আছে ভেবে তাকে খোঁজা হয়। শিশু ওয়ার্ডে যেতে পারে ভেবে সেখানেও খোঁজ করা হয়। কিন্তু পুরো হাসপাতাল তন্ন তন্ন করে খুঁজে তাকে আর পাওয়া যায়নি। পরে রুনার স্বামী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। এ ঘটনায় তিনি লিখিত অভিযোগপত্রও জমা দেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক মশিউর রহমান জানান, হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।