মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটির মতবিরোধ
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫২
চট্টগ্রামের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দ্রুত চালুর বিষয়ে মতৈক্য থাকলেও এর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনাসহ এটির পরিচালনার দায়িত্ব কাকে দেয়া হবে, এনিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটি। প্রায় সাতশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে (চবক) দিতে চায় মন্ত্রণালয়। তবে এই দায়িত্ব বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার পক্ষে অনড় অবস্থান নিয়েছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এনিয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের সঙ্গে সংসদীয় কমিটির দীর্ঘ বিতর্ক হয়েছে। চবককে দায়িত্ব দেয়া হলে, অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার পক্ষে কি কি যুক্তি বা কারণ আছে- সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেয়ার জন্য সংসদীয় কমিটি মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির বিষয়টির ওপর প্রতিবেদন দিন, তারপর আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব। কমিটির বক্তব্য হচ্ছে- বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এই ধরনের টার্মিনাল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। আমরাও বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার পক্ষে। কমিটি শুরু থেকেই তা বলে আসছে। কমিটির যুক্তি হলো, এনসিটিতে চবক বা সরকার কেন টাকা খরচ করবে, যারা এই টার্মিনাল ব্যবহার করবে-তারাই এর পরিচালনার দায়িত্ব নিক। তাহলে আমাদের বা সরকারের অর্থ সাশ্রয় হবে। সংসদীয় কমিটি এই অবস্থান থেকে সরবে না।’
মন্ত্রণালয় কেন চবককে এনসিটি’র দায়িত্ব দিতে চায়, তাদের যুক্তি কি? এরকম এক প্রশ্নের জবাবে কমিটি সভাপতি বলেন ‘মন্ত্রী বা মন্ত্রণালয় তাদের বক্তব্যের পক্ষে তেমন কোনো যুক্তি দেখাতে পারছেন না। কি কারণে মন্ত্রণালয় চবকের পক্ষে, তা আমরা জানি না।’
এদিকে, সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রাইভেট অপারেটর, চবক নাকি অন্য কোনো প্রক্রিয়া অবলম্বন করে এনসিটি চালু করলে লাভজনক হবে- সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনারও সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী এনসিটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেয়ার কথা বলেন। তার কথায় সরাসরি দ্বিমত পোষণ করেন কমিটির সদস্য এম এ লতিফ, তিনি বৈঠকে বলেছেন- ‘এসব দায়িত্ব প্রাইভেট অপারেটরকে দেয়া উচিত। তাহলে তারা দায়িত্ব নিয়ে এগুলো যথাযথভাবে পরিচালনা করবে। এজন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট মূল্য যাচাই করে দিতে পারে।’ বৈঠক শেষে এম এ লতিফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাইভেট অপারেটরকে এ দায়িত্ব না দিলে কেউ সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করবে না। অন্যথায় সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল- এর মতো দশা হবে।’
কমিটি সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, তালুকদার আব্দুল খালেক, হাবিবর রহমান, এম আব্দুল লতিফ, রণজিত্ কুমার রায়, আনোয়ারুল আজীম (আনার) ও অ্যাডভোকেট মমতাজ বেগম অংশ নেন।