গ্রেনেড হামলার দশম বার্ষিকীতে শহীদদের শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ

বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় শোকাবহ পরিবেশে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে শহীদদের স্মরণ এবং গ্রেনেড হামলার মূল পরিকল্পনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবির মধ্য দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পালিত হয়েছে রক্তস্নাত ভয়াল-বিভীষিকাময় ২১শে আগস্টের দশমবার্ষিকী। আওয়ামী লীগসহ স্বাধীনতার পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ২১ আগস্টের খুনিদের বিচারের পাশাপাশি জঙ্গি-সামপ্রদায়িকতা অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের গ্রেনেড হামলাস্থলে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। কঠোর নিরাপত্তাবলয়ে ঐ হামলায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। এরপর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসাবে শেখ হাসিনা দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও জাতীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শহীদ বেদীতে। এ সময় সেখানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিকাল ৫টা ২৪ মিনিটে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভের সামনে ২ মিনিট নিরবে দাঁড়িয়ে জঙ্গি-সামপ্রদায়িক অপশক্তি এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান শোকার্ত জনতা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আওয়ামী লীগসহ মহাজোট, ১৪ দল এবং এসব দলের সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্থান ত্যাগ করার পর অস্থায়ী শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। বিভিন্ন দল ও সংগঠনের পাশাপাশি বাঁধভাঙ্গা মানুষের শ্রদ্ধাঞ্জলিতে ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় অস্থায়ী শহীদ বেদী। নেতা-কর্মীরা তারেক রহমানসহ ঘাতকদের বিচারের দাবিতে মুহুর্মুহু স্লোগান দিয়ে পুরো এলাকা প্রকম্পিত করে রাখে। আওয়ামী লীগ ছাড়াও জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শহীদ বেদীতে। গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্বজন এবং বেশ কয়েকজন আহত নেতা-কর্মী ক্র্যাচে ভর করে, হুইল চেয়ারে করে এসে শ্রদ্ধা জানান শহীদদের প্রতি। তাদের উপস্থিতিতে চারিদিকে শোকের ছায়া নেমে আসে। ঐদিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ভয়াল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া পঙ্গুত্ববরণকারী কয়েকজন নারী নেত্রী তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, হাত-পা ক্ষত-বিক্ষত, জোড়াতালি দেয়া। সর্বাঙ্গে বিধে থাকা ঘাতক স্প্লিন্টারের তীব্র যন্ত্রণা কাউকে বলে বোঝানো যাবে না। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বিচার পাইনি। এরপর আশায় ছিলাম দল ক্ষমতায় আসবে, অপরাধীদের বিচার হবে। দল ক্ষমতায় এসে পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করার পর আবার ক্ষমতায় এসে প্রায় আট মাস অতিবাহিত হতে চলল। কিন্তু এখনো এই ভয়াল-বীভত্স হামলার বিচার পেলাম না। জীবন্মৃত হয়ে বেঁচে থাকলেও আমাদের একটাই দাবি, প্রকাশ্য দিবালোকে যারা এভাবে হত্যাযজ্ঞ চালাল সেই ঘাতকচক্র ও তাদের মদদদাতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক। এদিকে শ্রদ্ধা নিবেদনকে ঘিরে গোটা বঙ্গবন্ধু এলাকা ২১ আগস্টের শহীদদের প্রতিকৃতিসহ বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও কালো পতাকা দিয়ে শোকের আবহে সাজানো হয়। সেদিনের বিভিন্ন ঘটনার দিক তুলে ধরে ডিসপ্লে এবং বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কার্যালয়ের সামনে ২১ আগস্টের বর্বরোচিত হামলার ভয়াল-বীভত্স আলোকচিত্র দেখে অনেককেই চোখের জল ফেলতে দেখা যায়। শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে জেপি’র শ্রদ্ধা জাতীয় পার্টির (জেপি) পক্ষ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাস্থলে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য মফিজুল হক বেবু, আবু সাঈদ খান, ভাইস চেয়ারম্যান আজিজ বাঙ্গাল, যুগ্ম মহাসচিব খন্দকার শাহীন আল রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, দপ্তর সম্পাদক এম. সালাউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।