লোকসান কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মংলা বন্দর
এইচ এম দুলাল, মংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫৫
অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মংলা বন্দর। বিগত বছরগুলোর লোকসান কাটিয়ে গত ৭ বছর ধরে লাভে আছে মংলা বন্দর। এ সাত বছরে মংলা বন্দর থেকে আয় হয়েছে সাড়ে ছয়শ’ কোটি টাকা আর বন্দর পরিচালনায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। অর্থাত্ নিট মুনাফা করেছে দেড়শ’ কোটি টাকার বেশি।
২০০৩ থেকে শুরু করে ২০০৭ পর্যন্ত ৫ বছরে বন্দরটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হলেও গত সাত বছরে পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। ঐ ৫ বছরে এর লোকসান দাঁড়ায় সাড়ে ৩৮ কোটি টাকা। ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে বন্দর থেকে মুনাফা হয়েছে ৪৮ কোটি টাকা। প্রতি অর্থবছরেই এর মুনাফা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বন্দরের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বন্দরের দৈন্যদশা থেকে বের হয়ে আসতে ২০০৯ সালে মনোযোগী হয় সরকার। ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনে দক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়। এছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে এখানে বছরে এক হাজার অর্থাত্ প্রতিদিন গড়ে তিনটির বেশি জাহাজ ভেড়ার পরিকল্পনা নিয়ে নানা কার্যক্রম শুরু করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। মংলা ইপিজেডে স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা শিল্প-কারখানা গড়ে তোলায় সচল হতে শুরু করেছে ইপিজেড। ফলে আগের তুলনায় বেড়েছে আমদানি-রফতানির পরিমাণ।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসায়ীদের প্রধান আমদানি-রফতানির মাধ্যম দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মংলা। ১৯৫০ সালের ডিসেম্বরে এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সুন্দরবনবেষ্টিত এ বন্দর গত চার দশক ধরে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসাবে খ্যাতি লাভ করলেও কালের বিবর্তনে নদীর নাব্যতা হ্রাস, বন্দর ব্যবহারকারীদের চক্রান্ত এবং ব্যবস্থাপনার অদক্ষতায় ২০০০ সালের পর থেকে লোকসানে পড়ে এটি।
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত ২০০৭-০৮ অর্থবছর থেকে বন্দরটি সম্পূর্ণরূপে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে বন্দরে জাহাজ আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় মোট আয় হয়েছে ৬৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরে মোট আয় হয়েছে ১০৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ১৩৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বন্দরে জাহাজ এসেছে ৩৪৫টি। এ অর্থবছরে বন্দরের মোট আয় ১৪৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা ও ব্যয় ৯৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ হিসাবে বন্দর গত অর্থবছরে আয় করেছে ৪৮ কোটি ৯ লাখ টাকা।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর এইচ আর ভুঁইয়া পিএসসি বিএন বলেন, বন্দর পরিচালনা ব্যবস্থাপনার এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে এটি আরো গতিশীল হবে এবং ভবিষ্যতে আরো বেশি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে মংলা বন্দর। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালে মংলা বন্দরে বছরে জাহাজ আগমন সংখ্যা দাঁড়াবে এক হাজারটি।
মংলা পৌর মেয়র ও বন্দর ব্যবহারকারী ষ্টিভিডরস কোম্পানি মালিক জুলফিকার আলী বলেন, মংলা বন্দরকে গতিশীল ও অর্থনৈতিকভাবে চাঙ্গা করতে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতাই কাজে লাগছে। যার কারণে এটি লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে। অপর বন্দর ব্যবহারকারী শিপিং এজেন্ট বদিউজ্জামান টিটু বলেন, বর্তমানে বন্দরে দক্ষ ম্যানেজমেন্ট থাকায় এর ব্যবহারকারীরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ পাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের চাহিদার কারণে বন্দরের জাহাজ আগমনের পরিমাণ আগের চেয়ে বেড়েছে।