সংলাপ প্রত্যাখ্যান করে ‘যুদ্ধের’ ডাক ইমরানের
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫৫
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সরকারের সাথে সংলাপ চালিয়ে যাবার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সরকারের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টির শীর্ষনেতা ও সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান। সংলাপ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদের এক জনসভায় তিনি পাকিস্তানবাসীকে এগিয়ে এসে সরকারের পতন ঘটানোর আন্দোলনে সামিল হতে বলেন।
গতকাল সমর্থকদের উদ্দেশে ইমরান বলেন, আমি সরকারের সাথে সব ধরনের আলোচনা স্থগিত করছি। আমি পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ, কৃষক, পুলিশ, সেনাবাহিনী সব মহলের কাছে আবেদন জানাচ্ছি-আপনারা ‘স্বাধীনতার’ জন্য লড়াইয়ে সামিল হোন। সরকারের পদত্যাগের পরেই কেবল আলোচনা হতে পারে। ইমরানের সমর্থকরা সমস্বরে তার এই বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেন।
এদিকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বলেছে তারা সংবিধান বহির্ভুত কোনো কিছু করবে না। সংবিধানের মর্যাদা রক্ষায় সেনাবাহিনী সরকারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন মন্ত্রী। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, অসাংবিধানিক কোনো দাবির সাথে ওয়াশিংটনের সায় নেই। সংবিধান ও গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সব দলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানে শান্তিপূর্ণ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছিল এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছিল। অসাংবিধানিক উপায়ে তাকে সরানোর বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান।
তবে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল-কিউ) নেতা সুজ্জাত হুসেইন বলেছেন, বর্তমান সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সরকার একটা সমাধান হতে পারে। তারা জাতীয় সরকারের খসড়া প্রণয়ন শুরু করেছেন বলেও জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে গণভোট আয়োজন করা যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অপরদিকে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ও পাকিস্তান আওয়ামী তাহরিক (পিএটি) পার্টির বিরুদ্ধে রেড জোনের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় আন্দোলন কর্মসূচির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা অভিযোগের শুনানি পিছিয়েছে। আজ শুক্রবার নতুন করে শুনানি হতে পারে। উভয় পার্টিকে সুপ্রিম কোর্ট অভিযোগের ব্যাপারে সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলেছে। রেড জোন হল ইসলামাবাদের সবচেয়ে সুরক্ষিত অঞ্চল। এখানেই রয়েছে পার্লামেন্ট হাউস, সুপ্রিম কোর্ট, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন এবং বিভিন্ন দেশের দূতাবাস। সব সময় নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মোড়া থাকে পুরো এলাকা। কোনও ধরনের বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ মিছিল এখানে নিষিদ্ধ।
চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে বুধবার সরকারের সাথে সংলাপে বসার ব্যাপারে রাজি হয়েছিলেন ইমরান খান। সেই অনুযায়ী গতকাল সকালে রাজধানীর ম্যারিয়ট হোটেলে প্রথম দফা আলোচনা করতে যান তার প্রতিনিধিরা। ইমরান তখন রেড জোনে সমর্থকদের নিয়ে ‘পিকেটিং’ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ইসলামাবাদ পুলিশের আইজিপি আফতাব চিমাকে রাজধানী থেকে বদলি করার খবর শুনে ক্ষুব্ধ হন পিটিআই নেতা। তিনি আলোচনা স্থগিত করে সমর্থকদের আন্দোলন জোরদার করতে বলেন। ইমরানের অভিযোগ, আফতাব চিমা বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে সরকার তাকে বদলি করেছে। ইসলামাবাদে পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে গতকাল দুই হাজারের মতো বিক্ষোভকারী অবস্থান করছিলেন। তারা ক্ষণে ক্ষণে শ্লোগান দিয়ে নওয়াজ শরিফের পদত্যাগ দাবি করেন।
গত বছর মে মাসে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে নওয়াজ শরিফের দল বড় জয় নিয়ে সরকার গঠন করে। কিন্তু পিটিআই এবং পিএটির দুই শীর্ষনেতা ইমরান খান ও তাহিরুল কাদরি ওই নির্বাচনে কারচুপি হয়েছিল এমন অভিযোগ করে নওয়াজ শরিফের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের এই দাবিকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে নওয়াজ শরিফ কিছুতেই পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। গতকাল পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে নওয়াজের পদত্যাগ না করার ব্যাপারে সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। এমতাবস্থায় সেনাবাহিনী কি ভূমিকা পালন করে তা দেখার অপেক্ষায় সবাই।