প্রশাসনে অন্যায্য হস্তক্ষেপ থামছে না

প্রশাসনে অন্যায্য হস্তক্ষেপ থামছে না। অতীতে বিভিন্ন সরকারের সময়ে যেমন এই প্রবণতা ছিল, তেমনি বর্তমান সময়েও তথাকথিত এক শ্রেণির প্রভাবশালী দাবিদার ব্যক্তি বা ব্যক্তিগোষ্ঠী কারণে-অকারণে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের নির্দেশিত কাজ না করলে তারা প্রায় প্রকাশ্যে কর্মকর্তাদের হয়রানিমূলক বদলি করার হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এ অবস্থায় প্রশাসন অস্থির হয়ে উঠছে। কর্মকর্তারা স্বাভাবিকভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। কেন্দ্র থেকে শুরু করে যেসব কর্মকর্তা মাঠ প্রশাসনের দায়-দায়িত্বে রয়েছেন তাদের অনেকেই এরকম অভিযোগ করছেন। আবার এ ধরনের পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ক্ষেত্রবিশেষে দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন অনেক কর্মকর্তা। প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ করে বলছেন, সরকার যখন নানা জনমুখী ও উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে তখন হঠাত্ গজিয়ে ওঠা কতিপয় ‘হাইব্রিড’ নেতা-কর্মী নিজেদের আখের গোছানোয় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। জমি দখল, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য, সালিশ-মীমাংসার নামে টাকা আদায় ইত্যাদিই তাদের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কাজ করতে গিয়ে মূলত তারাই প্রশাসনে অন্যায্য হস্তক্ষেপ করছেন। অবশ্য ক্ষেত্রবিশেষে প্রশাসনেরও কেউ কেউ এরকম বাহিনীর সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে নিজেদের আখের গোছানোয় ব্যস্ত রয়েছেন। একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, আইনের তোয়াক্কা না করে এসব তথাকথিত নেতা-পাতি নেতা তাদের ইচ্ছামাফিক কাজ করে দিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের চাপ দিয়ে যাচ্ছেন। কাজ না করলে অনেক ক্ষেত্রে তারা কর্মকর্তাদের হয়রানিমূলক বদলি করানোর হুমকি দিচ্ছেন, প্রকাশ্যে গালিগালাজও করছেন। অনেকের মতে, এসবের ফলে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যে বরাদ্দ দিচ্ছে তাও তেমন কাজে আসছে না। বরং উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষুণ্ন হচ্ছে সরকারের ভাবমূর্তি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুত এসব অন্যায্য হস্তক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে প্রশাসন অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। ইতিমধ্যে মাঠ প্রশাসনে এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অনেক জায়গা থেকে কর্মকর্তারা উঠে আসতে চাইছেন। ইউএনও, ডিসি থেকে শুরু করে সচিবদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়। সূত্র জানায়, ভিজিএফ, ভিজিডি কার্ড বিতরণ থেকে শুরু করে টিআর-কাবিখা বণ্টনে নিয়ম না মেনে কাজ করতে বলা হয় মাঠ প্রশাসনের কর্মচারীদের। অনেক ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নামে এসব বরাদ্দ দেখিয়ে তথাকথিত প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিজেরাই খেয়ে ফেলছেন পুরোটা। সাবেক সচিব এম হাফিজ উদ্দিন খান এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে আইনানুযায়ী কাজ করতে না দিলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক সরকারের আমলেই প্রশাসনের ওপর দলীয় দাপট দেখানোর প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়। তবে এটি সাধারণভাবে কোন সরকারের মেয়াদের শেষের দিকে ঘটে থাকে। এখন সরকারের বয়স মাত্র আট মাস। এখন যে অবস্থা চলছে তা সরকার বা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়।