সম্প্রচার নীতিমালা সরকারের একটি রাজনৈতিক পরিকল্পনা

সম্প্রচার নীতিমালাকে সরকারের একটি রাজনৈতিক পরিকল্পনা উল্লেখ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেছেন, এই নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে স্বাধীন কণ্ঠ কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার থাকবে না। বর্তমান রাজনীতির মধ্য দিয়ে যদি এ নীতিমালা আসে তাহলে পরবর্তীতে সাংবাদিকদের জন্য ড্রেস কোড করা হবে না তার নিশ্চয়তা কে দেবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘সমপ্রচার নীতিমালা, আইন ও সমপ্রচার কমিশন’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সুজনের সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান। বৈঠকে বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, এতোদিন ধরে বাংলা ভাষায় সংবাদপত্র প্রকাশিত হচ্ছে। কোনো নীতিমালা ছিল না। নারায়ণগঞ্জের ঘটনা প্রকাশের পর সরকার তাড়াহুড়ো করে সম্প্রচার নীতিমালা প্রকাশ করেছে। বর্তমানে যেভাবে সরকার নীতিমালা তৈরি করছে তাতে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের ড্রেস কোড সরকার নির্ধারণ করে দেবে। সরকারের অনুগত ও পছন্দের লোকদের বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ ও মিডিয়া বিশেষজ্ঞদের জাতীয় সম্প্রচার কমিশনে নিয়োগ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সম্প্রচার নীতিমালার কোনো প্রয়োজন ছিল না। ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের হলুদ জামা ও কলামিস্টদের হাফ প্যান্ট পরতে হবে। নীতিমালা ছাড়া আমাদের গণমাধ্যম এতোদিন অনেক ভাল করেছে। বৈঠকে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সম্প্রচার নীতিমালা বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিভিন্ন মহল থেকে এ নীতিমালার সমালোচনা করা হচ্ছে। কিন্তু সরকার এতে কর্ণপাত করছে না। তিনি আরো বলেন, সংবাদ প্রকাশ নিয়ে এতোদিন পর্যন্ত সরকারের কোনো সমস্যা ছিল না। যখন নারায়ণগঞ্জের ঘটনা সম্পূর্ণ প্রকাশ হল তখন তাদের নীতিমালা করার ব্যাপারে মাথাব্যথা হল। সাবেক তথ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, মানুষের মধ্যে যেমন বহুত্ববাদ আছে, তেমনি মিডিয়াতেও আছে। তাইবলে মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। যদি করা হয় তবে তা দেশে সুশাসন নিশ্চিতের পথে অন্তরায় হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, দেশে বর্তমানে আটটি সরকারি কমিশন রয়েছে। তাদের অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলার নেই। তাই নীতিমালা কমিশন কি করবে তা বর্তমানে পরিষ্কার। কমিশন কোনো আইন দিতে পারবে না। তারা পারবে শুধু আইন প্রস্তাব করতে। আর তথ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রচার নীতিমালার সকল বিষয় নিয়ে কাজ করবে। বৈঠকে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর। অধ্যাপক গোলাম রহমান, সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খান, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবির প্রমুখ এতে বক্তব্য রাখেন।